লাউ এত উপকারী : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউ খুবই পছন্দ করতেন

লাউ আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সবজি যা অনেকের কাছেই প্রিয় একটি খাবার। লাউ সাধারণত শীতকালে বসতবাড়ির আশপাশে চাষ হয় তবে এখন প্রায় সারা বছরই লাউ চাষ করা হয়।

লাউ একই সঙ্গে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি সবজি। কারণ লাউয়ে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান ও পানি থাকার পাশাপাশি এতে উপকারি ফাইবার থাকে। লাউ মাছের তরকারি হিসেবে, লাবড়া, নিরামিষ, ভাজি, বড়া কিংবা সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়।

লাউয়ের মতো লাউ শাকেরও নানান রকমের উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ রয়েছে। গর্ভস্থ শিশু, সংক্রমণ, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্যান্য রোগ-প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে এ শাখ।

১. ফলিক এসিড সমৃদ্ধ একটি খাবার হলো লাউ শাক। তাই গর্ভস্থ শিশুর স্পাইনাল কর্ড এবং মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। এর অভাবে গর্ভস্থ শিশুর স্পাইনাল কর্ডের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়; ফলে প্যারালাইসিস, মস্তিষ্ক বিকৃতি অথবা মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে।

২. লাউ শাকে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি রয়েছে। ঠাণ্ডা এবং যেকোনো ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে ভিটামিন-সি। লাউ শাকে যথেষ্ট পরিমাণে আঁশ থাকে। লাউ শাকের আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে এবং পাইলস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৩. উচ্চ মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকায় অস্টিওপোরেসিস এবং অন্যান্য ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগের ঝুঁকি কমায় লাউ শাক।

৪. কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পটাসিয়াম; যা শরীরে তরলের মাত্রা ঠিক রাখে, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। লাউ শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে; যা হাড় শক্ত ও মজবুত করে।

৫. লাউ শাকে প্রচুর আয়রন রয়েছে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এবং লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।

লাউ এ যেমন এতো উপকার রয়েছে তেমনি লাউ ছিলো রাসুল সা. এর প্রিয় খাবার৷
যেমন

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউ খুবই পছন্দ করতেন ।
শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ১১৮

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)লাউয়ের তরকারী পছন্দ করতেন।
সহীহুল বুখারী ২০৯২ মুসলিম ২০৪১, তিরমিযী ১৮৪৯ আবূ দাউদ ৩৭৮২

এক দর্জি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দাওয়াত করে। তাঁর খাবারের জন্য লাউ মিশ্রিত সারীদ উপস্থিত করা হয়। লাউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুব প্রিয় খাদ্য ছিল। এজন্য তিনি লাউ খেতে শুরু করেন।

সাবিত বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, এরপর হতে আমার জন্য যে তরকারী রান্না করা হতো, তাতে লাউ দেয়া হতো, যদি তা সম্ভব হতো হতো।
শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ২৬২

লাউ তারকারিতে খানা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে যেমন রাসুল সা. বলেন ।

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একবার আমি নবী এর কাছে গিয়ে দেখলাম যে, লাউ কেটে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে। আমি বললাম, এর দ্বারা কী হবে? তিনি বললেন, এর দ্বারা আমরা আমাদের খানা বৃদ্ধি করব।

এই পৃথিবীতে আবার জন্মালে ‘কোরআনের হাফেজ’ হতে চাই: তাসকিন

সাধারণ মানুষের মতো ক্রিকেটারদের জীবনও র’ক্ত-মাংসে গড়া। একজন মানুষ হিসেবে তাদের শখ, পছন্দ-অপছন্দ ছিলো শৈশবে।

আট-দশটা বাঙালি কিশোরের মতো বেড়ে উঠেছে দুরন্তপনায়। এই যেমন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ।

ক্রিকে’টের বাহিরে নানান রঙের গল্প আছে এই পেসারের। যদি তিনি আবার জন্মাতেন তাহলে খেলার পাশাপাশি কোরআনে হাফেজ হতেন।

এছাড়া নিজের পছন্দের মানুষের সাথে প্রেম করেছেন নয় বছর। সেই মানুষকে বিয়ে করেছেন এই পেসার। তার পছন্দের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

এমন অনেক গল্প জানিয়েছেন অনলাইন ভিত্তিক একটি গণমাধ্যম’কে। নিম্নে তাসকিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাহিরের গল্প তুলে ধরা হলো-

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাসকিন আহমেদ: কিং খালেদ ইনস্টিটিউট, স্টাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (হাসি), এই দুটিতেই আছি। গ্র্যাজুয়েশন কোনটা থেকে কমপ্লিট করব এখনো শিওর না। অন্যটাতেও ভর্তি হতে পারি।

সবচেয়ে দুঃখের দিন কোনদিন? তাসকিন আহমেদ: যেদিন ১৯ বিশ্বকাপে (২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ) শুনেছি আমি দলে নেই।

এক সপ্তাহের জন্য রাজা হলে কী করবেন? তাসকিন আহমেদ : এক সপ্তাহের জন্য রাজা হলে? দুনিয়ার সব দু’র্নীতি উঠায়ে দিতাম আর গরিব থাকত না ওই অবস্থা করতাম মানে সাধ্যমতো। বি’পদে পড়লে সবার প্রথমে কাকে ফোন দেবেন? তাসকিন আহমেদ : বাবাকে।

কোন ক্রিকেটার এবং ফুটবলার কে পছন্দ করেন? তাসকিন আহমেদ : পছন্দের ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। ফুটবলার সিআরসেভেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে বন্ধু ক্রিকেটার কে? তাসকিন আহমেদ : সৌম্য, মোসাদ্দেক, এনামুল বিজয়।

অটোগ্রাফ না সেলফি দেওয়া সহজ? তাসকিন আহমেদ : সেলফিটাই ইজি আসলে। অটোগ্রাফের ব্যাপারটা হলো অনেক সময় সবাইকে দেওয়া যায় না। হাতও ব্যথা হয়। সেলফিটাই ইজি এখন।

মেসি বা রোনালদোর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলে সঙ্গী হিসেবে কাকে নেবেন? তাসকিন আহমেদ : আমার ছেলেকে। ওর সঙ্গে একটা ছবি তুলে রেখে দিলে ও বড় হয়ে ওর বন্ধুদের দেখাতে পারবে। বলতে পারবে, দেখ ব্যাটা কার সঙ্গে ছবি তুলেছি (হাসি)।

নিজের সবচেয়ে বড় গুণ, দোষ? তাসকিন আহমেদ : একটা গুণ যদি বলা হয়, আমি মানুষকে দ্রুত ক্ষমা করতে পারি। রাগ করে থাকতে পারি না বেশিক্ষণ। দোষ যদি বলা হয়, মানুষের কথাগুলা গায়ে লাগে, কয়েক দিন ধরে মাথায় থেকে যায়।

আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি? তাসকিন আহমেদ : আমার বাবার অনেক অবদান।

সেলিব্রিটি লাইফ কতটা উপভোগ করেন? তাসকিন আহমেদ : এটা আলহামদুলিল্লাহ। এটা একটা বিশাল বড় পাওয়া। অনেক টাকা থাকলেও কিন্তু এটা অনেকে পায় না।

মুসলমান খেলোয়াড়দের সমর্থনে চালু হচ্ছে মুসলিম অ্যাথলিট চার্টার

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের ফুটবলার পল পগবা যখন হেইনিকেইন ব্র্যান্ডের একটি বিয়ারের বোতল টেবিল থেকে সরিয়ে রাখেন, তখন সেটা নিয়ে বিস্তর আলোচনার সৃষ্টি হয়।অ্যালকোহল পান, কিংবা তার প্রসার ও বিজ্ঞাপনে অংশ নেয়া মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ,

তাই একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে হয়তো তিনি এটা অনুভব করেছেন যে এর থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখা দরকার। কিন্তু এমন একটি পরিস্থিতিতে তাকে ঠেলে দেয়ার কতটা দরকার ছিল?

অলাভজনক সংস্থা নুজাম স্পোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবাদুর রহমান বলেন, ‘পল পগবার বোতল লুকিয়ে রাখার এই ঘটনা এটা বোঝাচ্ছে যে শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

’বিবিসি স্পোর্টের শামুন হাফেজ জানিয়েছেন, গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চার্টার বা সনদ প্রকাশ করা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘মুসলিম অ্যাথলিট চার্টার’। এটিকে ‘এ ধরণের প্রথম’ চার্টার বলে বর্ণনা করা হচ্ছে এবং এই ধারণা এসেছে এবাদুর রহমানের মাথা থেকে।

এবাদুর রহমান আগে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সাথে কাজ করতেন।মুসলমান পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়দের সমর্থন করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠার যাতে এগিয়ে আসে, এই চার্টার সেটিই চাইছে। আর যারা এতে স্বাক্ষর করছে, তারা ‘ইতিবাচক পরিবর্তন’ নিয়ে আসার ব্যাপারে অঙ্গীকার করছে।

চার্টারে সব মিলিয়ে ১০টি পয়েন্ট বা দফা রয়েছে, যার মধ্যে অ্যালকোহল পরিহার- এমনকি উদযাপনের সময়েও, প্রার্থনার জন্য উপযোগী স্থানের ব্যবস্থা করা, হালাল খাবার এবং রমজান মাসে রোজা রাখার অনুমতি দেয়া।এবাদুর রহমান বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘আমি খেলাধুলার জগতে কাজ করার সুবাদে জানি যে এখানে আমার ধর্ম মেনে চলা কতটা কঠিন।’

‘খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলোর সাথে কথা বলে আমরা এটা অনুভব করেছি যে যুক্তরাজ্যে একটি মুসলিম অ্যাথলিট চার্টার চালু করার এটাই সঠিক সময়। আমরা বিশ্বাস করি এটাই প্রথম এবং এর মতো কিছু আগে হয়নি।’‘সংহতি, সমতা এবং নিজেদের ক্লাব ও টিমে মুসলমান খেলোয়াড়রা যে অবদান রাখছে তাকে স্বীকৃতি দেয়ার যে ইতিবাচক আন্দোলন, তাতে যোগ দিতে শুরু করেছে ক্লাব ও সংগঠনগুলো।’

‘রোমাঞ্চকর’ চার্টারে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবের সমর্থন
নুজাম হিসেব করে দেখেছে যে ইংল্যান্ডের চারটি প্রধান ফুটবল লিগের প্রথম টিম এবং অ্যাকাডেমিগুলোয় ২৫০ জনের মতো মুসলিম ফুটবলার আছে।এদের মধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পল পগবা, লিভারপুলের সালাহ এবং মানে, চেলসির এন’গোলো কন্তে ও অ্যান্তোনিও রুডিগাররা বিশ্বব্যাপী বেশ পরিচিত।

এই চার্টার প্রকাশিত হওয়ার আগেই প্রিমিয়ার লিগের পাঁচটি এবং ইএফএলের ১৫টি ক্লাব ইতোমধ্যে একে সমর্থন জানানোর অঙ্গীকার করেছে।‘কিক ইট আউট’ এবং ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতো ক্যাম্পেইন গোষ্ঠীগুলো বলছে, তারা এই উদ্যোগের সাথে আছে।

ব্রেন্টফোর্ড ক্লাবের একজন মুখপাত্র বিবিসি স্পোর্টকে বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হলো মুসলমানেরা এবং এই সম্প্রদায় দ্রুত বাড়ছে। প্রিমিয়ার লিগেরই বিভিন্ন ক্লাবে ৭০ জনের মতো মুসলিম খেলোয়াড় খেলে থাকে।

ক্লাবগুলো যাতে বাড়িতে ও কাজের জায়গায় এসব খেলোয়াড়দের সমর্থন দেয়, সে ব্যাপারে তাদের সাহায্য দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চার্টার এবং এর প্রতি যে সমর্থন দেয়া হচ্ছে, তার প্রয়োজন রয়েছে এবং ক্লাবগুলো একে স্বাগত জানাবে।’

ওয়াটফোর্ড একজন মুখপাত্র বলেন, নুজামের সাথে কাজ করতে পেরে তার ক্লাব ‘রোমাঞ্চিত’। তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের প্রথম টিম, নারী টিম এবং অ্যাকাডেমির খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এই চার্টার বড় উপকারে আসবে।’

গেমচেঞ্জার
একজন অ্যাথলিটের দৈনন্দিন এবং আধ্যাত্মিক বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়তা করে নুজাম। এছাড়া, ধর্ম সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে এবং সহায়তা পেতে ইসলামী পন্ডিতদের সাথেও যোগাযোগও করিয়ে দেয়।

এই সংগঠনটি ৯২টি ক্লাবের মুসলিম ফুটবলারদের জন্য উপহার পাঠিয়েছে। যারা এই উপহার পেয়েছেন, তাদের একজন এএফসি উইম্বলডনের মিড-ফিল্ডার ১৯-বছর বয়সী আইয়ুব আসাল, তিনি এই চার্টারকে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

গত বছর ১৬ ম্যাচে চারটি গোল দিয়েছেন আসাল। বিবিসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘মুসলমানদের জীবনযাপন কিছুটা ভিন্ন। দিনে পাঁচবার প্রার্থনা করার মতো কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। আর মদ পান করার মতো কিছু বিষয় আছে, যা আপনি চাইলেও করতে পারেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই চার্টারটি মুসলিম ফুটবলারদের জন্য বেশ সাহায্যের হবে, কারণ এটি তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে। তারা হালাল খাবার পাবেন, ক্যান্টিনে যাওয়ার ক্ষেত্রে দু’বার ভাবতে হবে না। ভাবতে হবে না কোনটা খাবো, কোনটা খাবো না – এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

‘ধর্ম আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, এটা আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি তার চেয়েও বড় ব্যাপার।’ওয়েস্ট হ্যামের নারী দলের মিডফিল্ডার হাওয়া সিসোকো বলেন, তার ক্লাবে তিনি পূর্ণ সমর্থন পেয়ে আসছেন, যেখানে সবাই তাকে ‘ভালোবাসে’।

কিন্তু তিনি মনে করেন, এই চার্টার তাকে ‘আরো সুখী ও শক্তিমান’ হিসেবে অনুভব করতে সাহায্য করবে।বিবিসি স্পোর্টকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন আমার সাথে একটা কমিউনিটি আছে যারা আমাকে সমর্থন দেবে, আমার আর একা লাগে না।’

‘নুজামের মাধ্যমে আমি খাদিজা মেল্লাহকে পেয়েছি, যিনি একজন জকি। এটা জেনে ভালো লাগে যে অনেক মুসলিম খেলোয়াড় আছে, যাদের সাথে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারি। মানুষ কীভাবে থাকে, তারা কী ভাবে এগুলো জানতে পেরে ভালো লাগে।’

তিনি যোগ করেন, ‘একজন মুসলিম হিসেবে মানুষকে সঠিক বার্তাটা দেয়া প্রয়োজন। আমি এখানে সবাইকে প্রতিনিধিত্ব করি। যখন আমি চেঞ্জিংরুমে থাকি, তখন তারা কেবল আমাকে দেখে না – তারা দেখে সকল মুসলমানকে।’‘আমাকে সবসময় ভালো মেয়ে হয়ে থাকতে হবে, আমার পক্ষে যতটা ভালো হওয়া যায়।’সূত্র : বিবিস

মেসির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দিতে চান এমি মার্টিনেজ

মেসির হাতে বিশ্বকাপ তুলে দিতে চান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ওলেকে দেয়া লম্বা এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন এমন কথা।

২৮ বছর পর আর্জেন্টিনার শিরোপার আক্ষেপ মেটানোতে বড় অবদান ছিল এমিলিয়ানো মার্টিনেজের।

সেমিফাইনালে তিনটি শট ঠেকিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন এই গোলরক্ষক।

কোপা খেলতে এসে বলেছিলেন মেসির জন্য কোপা জিততে চান। সেটা জিতেছেন। এবার বিশ্বকাপটাও মেসির হাতে তুলে দিতে চান এই গোলরক্ষক। মেসির সাথে খেলতে পেরে নিজের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আলোচনায় আছে পেনাল্টি টেকারদের সাথে এমির শুরু করা মানসিক খেলার কথাও। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাকে হয়তো খুব বেশি মানুষ এমনটা করতে দেখেনি, তবে এটা আমি প্রায়ই করি।

শুধু পেনাল্টি টেকারের মনোযোগ সরিয়ে নেয়াই নয়, নিজেকেও তাড়িত করতে এটা কাজে দেয়।

ফাইনালের চাপ নিয়ে এমি বলেন, আমি জানতাম ফাইনালে খারাপ কিছু ঘটে গেলে আমাদের সাফল্যের কোনো মূল্য থাকবে না। প্রেস, পরিচিত মানুষ, বিভিন্ন ধরনের মিম থেকে দূরে থেকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয়েছে সেই ম্যাচকে ঘিরে।

এই ম্যাচটি আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। আমি এখন বিশ্বাস করি, প্রতিদিনই আরও কিছুটা উন্নতি আমার হবে।

মিনা ছেড়ে আরাফাত ময়দানে হাজিরা

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ। আরাফাতের ময়দানে হাজিদের কণ্ঠে আজ সমস্বরে উচ্চারিত হচ্ছে লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক।

সোমবার সকাল থেকেই মিনা ছেড়ে আরাফাতে উপস্থিত হচ্ছেন হাজিরা। যেখানে স্বাস্থ্য বিধি মেনে খুতবা শুনবেন প্রায় ৬০ হাজার মুসল্লি।

মুসল্লিদের উদ্দেশে খুতবা দেবেন, মসজিদুল হারামের অন্যতম ইমাম শায়খ ড. বানদান বিন আবদুল আজিজ বালিলাহ। যা অনুবাদ হবে বাংলাসহ ৯ টি ভাষায়।

দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষে মুজদালিফায় যাবেন তারা। যেখানে নামাজ আদায় ও পাথর সংগ্রহ করবেন মুসল্লিরা।

মঙ্গলবার পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও মাথার চুল কাটঁবেন হাজিরা। হাজিদের যাতায়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৩ হাজার বাস। সর্বাত্মক সহায়তায় নিয়োজিত আছেন ২৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী

ম্যারাডোনা স্টেডিয়ামে ‘সুপার কাপে’ মুখোমুখি ইতালি-আর্জেন্টিনা

ইতিমধ্যে নিজের মহাদেশে শিরোপার খেতাব অর্জন করে নিয়েছে ইতালি এবং আর্জেন্টিনা।

এবার তারা একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারে। ‘সুপার কাপে’ মহাদেশীয় সেরাদের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন লা আলবিসেলেস্তের মুখোমুখি হতে পারে জর্জিও চিয়েলিনির আজুরিরা।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের তারিখ পাঞ্জার মতে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা কনমেবল এবং উয়েফার মধ্যে এই নিয়ে বেশ কিছু সময় কথাবার্তা চলার পর এখন প্রায় সিদ্ধান্ত পাকা হওয়ার পথে।

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার কর্মক্ষেত্র নেপলস এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে পারে।

আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জেতার পাশপাশি নাপোলির হয়ে ইতিহাস রচনা করে দলকে সিরি এ জেতানোর জন্য আজও বন্দর শহরে কার্যত পূজিত হন মারাদোনা। সেই কারণেই দুই দলের ম্যাচ ইতালির এই শহরে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে শোনা গেছে।

তবে মহাদেশীয় সেরাদের মধ্যেকার ম্যাচের পরিকল্পনা নতুন তো নয়ই, বরং বেশ পুরনো। বহু বছর ধরে পৃথিবীর নানা মহাদেশের খেতাব জয়ী দলগুলি কনফেডারেশন কাপে একে অপরের মুখোমুখি হত।

গত ২০১৭ সালেও এমনটা দেখা গেছে। সেইবার জার্মানি কনফেডারেশন কাপের খেতাব জিতে নেয়। তবে এরপরেই টুর্নামেন্টটি আর আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেই টুর্নামেন্ট চালু না হলেও সুপার কাপের মতো একটি ম্যাচে দুই সবচেয়ে শক্তিশালী ফুটবল মহাদেশের সেরা দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে।

তবে ফুটবলের ব্যস্ত সূচির জন্য ও করোনার কথা মাথায় রেখে এখনই সেই ম্যাচ করা সম্ভব নয়। সম্ভবত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে কোন সময়েই এই ম্যাচ আয়োজিত হতে পারে।

‘যারা মেসির সমালোচনা করে তারা ফুটবলের কিছুই বোঝে না’

যারা মেসির সমালোচনা করে তারা ফুটবলের কিছুই বুঝে না, এমন মন্তব্য করলেন দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে দিয়েগো সিনেগ্রা।

শুধু তাই নয়, মেসি এবং ম্যারাডোনার তুলনাতেও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন সাবেক এই ইতালিয়ান ফুটবলার।

পেলে-ম্যারাডোনা, মেসি-রোনালদো নামগুলো বারবার সামনে আসে তাদের ফুটবলীয় অর্জনের কারণে। নিজেদের সময়ে ফুটবল দক্ষতায় সমর্থকদের মন জয় করেছেন তারা।

তবে সর্বকালের সেরা তর্কে কারো কাছে একজন এগিয়ে তো আরেকজনের কাছে অন্যজন এগিয়ে।

এভাবেই চলছে সমর্থক, বিশ্লেষক আর ফুটবল বোদ্ধাদের নানা মত। যা চলবে ভবিষ্যতেও। তবে ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনায় নাকি ঘোর আপত্তি লিওনেল মেসির। এমনটাই দাবি ম্যারাডোনার সন্তান দিয়েগো সিনেগ্রার।

এ নিয়ে দিয়েগো সিনেগ্রা বলেন, ম্যারাডোনার সাথে যখন মেসির তুলনা করা হয় তখন সেটি তার পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, মেসি সাধারণ মানুষের মাঝে সবসময়ের সেরা ফুটবলার। আর তার বাবাকে বলা হয় ফুটবল ঈশ্বর।

মেসিকে নিয়ে দিয়েগো সিনেগ্রা বলেন, আমি তাকে পছন্দ করি, তাকে ভালোবাসি। ফুটবল ইতিহাসে তার মতো কোয়ালিটিফুল ফুটবলার আর একজনও নেই।

জাতীয় দলের হয়ে তার ট্রফি জয় দেখে আমি খুব খুশি। যারা মেসিকে নিয়ে সমালোচনা করে তারা ফুটবলের কিছুই বুঝে না।

‘পেলে, ম্যারাডোনা নাকি মেসি, কে সেরা’র বিতর্ক যেমন চলবে তেমনি সমর্থকদের ভালোবাসায়ও সিক্ত হবেন প্রিয় ফুটবলাররা।

তবে মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠলে সেই তর্কের অবসান হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে অনেকটাই।

ছেলের ছবি প্রকাশ করে সবার দোয়া চাইলেন সাকিব আল হাসান

এ বছরের ১৬ মার্চ তৃতীয় সন্তানের বাবা হয়েছেন সাকিব আল হাসান। তখন নাম প্রকাশ করলেও নবজাতকের

ছবি প্রকাশ করেন নি এই অলরাউন্ডার। ভক্তদের সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো।

শনিবার (১৭ জুলাই) ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে পুত্র সন্তানের ছবি প্রকাশ করে দোয়া চাইলেন সাকিব।

বিশ্বসেরা সাকিব লিখেছেন, আমার ছেলে আইজাহ, সবাই দয়া করে ওকে আপনার প্রার্থনায় রাখুন।

মাথায় ক্যাপ আর গায়ে হলুদ রঙের পলো-শার্ট পরা ছোট আইজাহ।

গত ১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে তৃতীয় সন্তান আসার খবর জানান সাকিব।

তখন সাকিব তার পোস্টে লিখেছিলেন, নতুন বছর, নতুন শুরু, নতুন সংযোজন। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

এরপর গত মার্চে স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরের ঘরে দুই কন্যার পর আসে এক পুত্র সন্তান। পুত্র সন্তান নাম রাখা হয়েছে ‘আইজাহ আল হাসান’।

বাংলাদেশ দলে ইতিহাসে প্রথম কোরআনে হাফেজ ক্রিকেটার

এবার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে ভারত যাচ্ছে।

সফরে চারদিনের একটি ম্যাচে ও ৫টি ওয়ানডে ম্যাচে খেলবে টাইগাররা।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আফগান যুবাদের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য ১৬ সদস্যের স্কোয়াড চূড়ান্ত করেছে।

যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি এখনো। আর এই সফরের চূড়ান্ত এই দলে সুযোগ পেয়েছেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার চর নুরআহমদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে কোরআনের হাফেজ মহিউদ্দিন তারেক।

তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম কোরআনে হাফেজ ক্রিকেটার যে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন!

এদিকে তারেক ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনার পাশাপাশি ক্রিকেটকে আপন করে নিয়েছিলেন।

কোরআনে হাফেজ তারেক বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) পাঁচ বছর আগে ক্লাস সেভেনে ভর্তি হন। ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব ১৬, ১৭, ১৮ দলে খেলেছেন।

তারেক একজন পেস বোলার। তবে ব্যাটিং খুব ভালো করেন। সম্প্রতি ইয়ুথ টুর্নামেন্টে অলরাউন্ডার পারফরমেন্সের জন্য বিসিবি ঘোষিত ৪৫ জনের প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

মেসির পোস্ট করা ছবিতে লাইক পড়েছে ২ কোটিরও বেশি

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতার স্বাদ পেয়েছেন লিওনেল মেসি।

আর আলবিসেলেস্তেরাও ২৮ বছরের প্রতীক্ষার পর পেয়েছে শিরোপার স্বাদ।

এমন অবিস্মরণীয় অর্জনের পর বর্তমানে ছুটি কাটাচ্ছেন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। তাই বলে তার রেকর্ড গড়া কিন্তু থেমে নেই।

সদ্য সমাপ্ত কোপা আমেরিকার আসর শেষে অনেক সাধের ট্রফিটি পাশে বসিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি আপলোড করেছিলেন মেসি।

ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘কী সুন্দর উন্মাদনা! এটা অদ্ভুত সুন্দর। ধন্যবাদ ঈশ্বর। আমরা চ্যাম্পিয়ন! চলো এগিয়ে চলো!’

মেসির এই পোস্ট ইনস্টাগ্রামে রেকর্ড গড়েছে। এই ছবি ভেঙে দিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড। ছবিটি এখন ইনস্টাগ্রামে সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া স্পোর্টস পিক বা খেলার জগতের ছবি।

মজার ব্যাপার, এখানেও মেসি পেছনে ফেলেছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।

গত ২৫ নভেম্বর ডিগেয়ো ম্যারাডোনার মৃত্যুতে জুভেন্টাসের পর্তুগিজ উইঙ্গার যে ছবি পোস্ট করেছিলেন, এতদিন সেটি ছিল সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া স্পোর্টস পিক।

মেসির পোস্ট করা ছবি এরই মধ্যে ২ কোটির বেশি লাইক পড়েছে। তবে সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিলে এটি ষষ্ঠ সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া ছবি।

বাচাইকৃত পোস্ট