মুরাদের তুলনায় তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অডিও ফাঁস হয়ে আলোচনা-সমালোচনায় থাকা ডা. মুরাদ হাসান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। অথচ গত কয়েক দিন আগেও তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার ৭ ডিসেম্বর রাতে ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। এ পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে জামালপুর- ৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান ১৯৭৪ সালের ১০ অক্টোবর জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিয়র রহমান তালুকদার তার পিতা। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের জনক।

তিনি পেশায় চিকিৎসক হলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনী হলফনামায় আয়ের উৎসের কলামে পেশা বা চাকরি থেকে সরাসরি কোনো আয় প্রদর্শন করেননি তিনি। ডা. মুরাদ হাসানের আয়কর বিবরণী ও হলফনামা বিশ্লেষণ করে তার বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৩ টাকা এবং বার্ষিক ব্যয় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়। তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে- দুটি গাড়ি এবং রাজধানীর টঙ্গী ও পূর্বাচলে দুটি প্লটের মালিকানার তথ্য।

তবে মুরাদ হাসানের তুলনায় তার স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। স্ত্রীর ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, রাজধানীর পুরানা পল্টনে ছয়তলা একটি বাড়ি, বেইলি রোডে একটি ফ্ল্যাট এবং শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো দান সূত্রে পাওয়া বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে পাওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুরাদ হাসান গৃহ-সম্পত্তি হিসাবে স্থাবর সম্পদের হিসাবের জায়গায় দৌলতপুরের সরিষাবাড়িতে কৃষি জমি হিসেবে ২৫ বিঘার ২/৫ অংশের মালিকানার ঘোষণা দেন।

এ ছাড়া অকৃষি জমি হিসেবে টঙ্গীতে পাঁচ কাঠার ২/৫ অংশ এবং রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউক থেকে পাওয়া পাঁচ কাঠা জমির বর্ণনা দিয়েছেন। হিসাব বিবরণীতে কৃষিজমির মূল্য ঘোষণা না দিলেও টঙ্গীর জমির মূল্য ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ঢাকার পূর্বাচলের জমির মূল্য ৩৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫০ টাকা দেখিয়েছেন তিনি।

এছাড়া যানবাহন, শেয়ার, ব্যাংকে জমা, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস সামগ্রীসহ প্রভৃতি খাতে এক কোটি ৫০ লাখ তিন হাজার ৯৬৬ টাকা মূল্য হিসাবে ঘোষণা দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ঋণ দেখিয়েছেন তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে জমা দেওয়া আয়কর-বিবরণীতে এমন তথ্য উল্লেখ করেন ডা. মুরাদ।

গত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, তিনি কৃষি খাত থেকে বছরে ৬০ হাজার, বাড়ি কিংবা দোকানসহ অন্যান্য খাত থেকে ভাড়াবাবদ এক লাখ ২৩ হাজার ২৯৩ এবং ব্যবসা থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করেন। তবে, পেশা ‘চিকিৎসা’ দেখালেও সে খাত থেকে কোনো আয়ের ঘোষণা নেই হলফনামায়।