বিকাশে ভুলে আসা ১৯ হাজার টাকা ফেরত পাঠাল কিশোর

অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সততায় মুগ্ধ হয়েছে এলাকাবাসী। ভুল করে বিকাশে চলে যাওয়া ১৯ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে সে।

এই শিক্ষার্থীর নাম পরশ আহমেদ। তার বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে। স্থানীয় এম এ ওহাব উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সে। তার বাবার নাম জহির মিয়া। রংপুরের এক ব্যক্তির টাকা ভুলক্রমে তার কাছে চলে যাওয়ার পর সে টাকাটি ফেরত পাঠায়।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে সাতটায় পরশের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে হঠাৎ চলে আসে ১৯ হাজার ৩৩৩ টাকা। টাকা পেয়ে অবাক পরশ ঘটনা বুঝতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও স্থানীয় নৈনারপর এলাকার বিকাশ এজেন্ট স্টুডেন্ট লাইব্রেরিকে বিষয়টি অবহিত করে। ওই বিকাশ এজেন্ট সঙ্গে সঙ্গে টাকাটি এসেছে যে নম্বর থেকে, সেখানে কল করে। মুঠোফোনের ওপার থেকে জানানো হয়, নম্বরটি রংপুরের একজন বিকাশ এজেন্টের।

ওবায়দুল হক নামের সেখানকার এক ব্যক্তি ওই বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে টাকাটি একজনকে পাঠাতে গিয়ে ভুলে আরেক নম্বরে (পরশের) পাঠিয়েছে। ওবায়দুল হক পরশকে টাকাটি ফেরত দিলে কৃতজ্ঞ থাকবেন জানান।
পরশ সঙ্গে সঙ্গেই তার এলাকার ওই বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে ওবায়দুল হককে টাকাটি ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এ সময় ওবায়দুল, ঘটনার সাক্ষী দুই বিকাশ এজেন্ট, উপস্থিত লোকজন সবাই কিশোর পরশের সততাকে প্রশংসা করেন।

টাকা ফেরত পেয়ে মুঠোফোনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল হক বলেন, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পরশের সততায় তিনি মুগ্ধ। আজকাল মুঠোফোনে ভুলক্রমে ১০০ টাকা রিচার্জ হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুরোধ করেও সে টাকা ফেরত পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। সেখানে একজন কিশোর ছাত্র বিকাশে ১৯ হাজার ৩৩৩ টাকা ফেরত পাঠিয়ে সততার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আরও সংবাদ

‘মিথ্যা বলতে বলতে সত্য ভুলে গেছেন ওবায়দুল কাদের’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মিথ্যা কথা বলতে বলতে সত্য ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, র‌্যাব-পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রতিদিন একটি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। আর এই সংবাদ সম্মেলনের একটাই বিষয়- বিএনপির বিরুদ্ধে আজগুবি, কল্পিত সব মিথ্যাচার ও কুৎসা উদগিরণ করা। মিথ্যা বলতে বলতে সত্য ভুলে গেছেন তিনি। জনগণ তার কথা শুনলে টিভির চ্যানেল বদলে দেয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিশিরাতে একটি পার্লামেন্ট বানিয়েছে। মনের মাধুরী মিশিয়ে পার্লামেন্টের বিরোধী দল বানিয়েছে। আদালত ও নির্বাচন কমিশন সরকারের মাইক্রোফোন হিসেবে কাজ করছে।

‘সব তাদের হওয়ার পরও প্রতিদিন তাদেরকে কেন বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে? কেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে হচ্ছে? কেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত? কেন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কুৎসা রটানো হচ্ছে?’

রিজভী আরও বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনে বিএনপির যে অবদান আছে, সেটি আওয়ামী লীগের নেই। সেই অনুশোচনায় কাদের সাহেবরা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নিশিদিন অশ্রাব্য মিথ্যাচারে লিপ্ত রয়েছেন।