বালুচরে দশ কিলোমিটার হেঁটে চরবাসীর কাছে গেলেন ডিসি

তিস্তার ধু ধু বালুচরের দশ কিলোমিটার পথ হেঁটে দুটি বাস্তবায়িত প্রকল্প দেখতে গেলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর। এ সময় তিনি তিস্তার বুকে জেগে ওঠা বালুচরে কৃষকদের আগাম ফসল দেখে মুগ্ধ হন।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের তিস্তা চরের তিনটি ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত প্রকল্প মুজিবকেল্লাহ নির্মাণ এবং স্ট্যান লাইড ও সোলার হোম সিস্টেম প্রকল্প পরিদর্শনে যান তিনি। এ সময় ৪ ঘণ্টা তিস্তার চরে থেকে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে বিকেল ৫টায় ফিরে লালমনিরহাটের উদ্দেশে রওনা করেন।

উপজেলা সিন্দুর্না ইউনিয়নের চর সিন্দুর্না গ্রামের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের চরবাসীর জন্য প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বাস্তবায়ন প্রকল্পের লক্ষ্যে তিস্তার চরের প্রতিটি বাড়ির সোলার হোম সিস্টেম প্রকল্প পরিদর্শন ও তাদের সঙ্গে কথা বলেন ডিসি।

ওইদিন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর প্রায় ১০ কিলোমিটার বালুচরে হেঁটে চর এলাকার প্রতিটি বাড়ি গিয়ে সোলার সিস্টেম দেখেন এবং তাদের কথা শোনেন।

তিনি বলেন, তিস্তার বাঁধ নির্মাণ হলে চরের মানুষের দুঃখ ঘুচবে। তিস্তার চরে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হচ্ছে, এতে চরের কৃষকরা লাভবান হবেন।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৬ কোটি কাটা ব্যয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত মুজিব কেল্লাহ তিনতলা ভবন নির্মাণ এবং মুজিব ক্যাটেল সেট, স্ট্যান লাইড ও সোলার হোম সিস্টেম প্রকল্প তিস্তার চরে নির্মিত হচ্ছে। নদীভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের ঝরে পড়া রোধ নিয়েও জেলা প্রশাসক মতবিনিময় করেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা সিন্দুর্না ইউনিয়নের চর সিন্দুর্না গ্রামের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের ৭১১ পরিবারের জন্য সোলার প্রদান করা হয়। এছাড়া চর অঞ্চলের জন্য পাঁচটি স্টান লাইড স্থাপন করা হয়।

এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফরের সঙ্গে ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহমেদ, সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান, মফিজার রহমান ও গ্রাম পুলিশ।

jagonews24

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, চরের প্রতিটি বাড়িতে সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে। এতে সন্ধ্যা হলেই তিস্তার চর আলোকিত হয়ে ওঠে। চরবাসীর জন্য সোলার হোম সিস্টেম ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর বলেন, চরের মানুষের জীবনমান সরেজমিনে দেখতে চরাঞ্চল পরিদর্শন করেছি। এখানকার প্রতিটি পরিবার পরিশ্রমী। তিস্তার বালুচরে ফসল ফলিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।

তফসিলের আগেই মেয়র প্রার্থীর শোডাউন

তফসিলের আগেই মেয়র প্রার্থীর শোডাউন
নড়াইল পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মেয়র প্রার্থী আনজুমান আরা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বিশাল নির্বাচনী শোডাউন দিয়েছেন।

সোমবার (৭ডিসেম্বর) বিকেলে নড়াইল পৌরবাসীর ব্যানারে শহরের চরেরঘাট এলাকা থেকে একটি মোটর শোভাযাত্রা নড়াইল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

বিজ্ঞাপন

মোটর শোভাযাত্রার আগে মেয়র প্রার্থী এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, তিনি পৌর মেয়র হলে একটি পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরি গড়বেন এবং পৌরবাসীকে প্রকৃত নাগরিক সুবিধা দেবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল সাহা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইফসুফ, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ইসমত আরা, জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেত্রী রওশন আরা কবির লিলি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, জেলা যুবলীগ নেতা খোকন সাহা, জেলা পরিষদ সদস্য নাজনীন সুলতানা রোজি, ইজিবাইক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সিকদার মন্জুরুল ইসলাম পান্নু প্রমুখ।

পরে তার পক্ষে ৫ শতাধিক মোটরসাইকেল নড়াইল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না হলেও আসন্ন নড়াইল ও কালিয়া পৌরসভা মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বসে নেই। এ দু’পৌরসভার ময়ের পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে নড়াইল পৌরসভায় ১১ জন এবং কালিয়া পৌরসভায় ১০ জন।

প্রার্থীরা সবাই মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করছেন। দলীয় প্রার্থীরা শোডাউনের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, জীবনবৃত্তান্তসহ আবেদন ফরম জমা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এসব আবেদন কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে।

জেলা নির্বাচন অফিসার মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নড়াইল ও কালিয়া পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।