ইহুদিদের সকল সেনাকে অবশ্যই ইসলামী দেশগুলি ত্যাগ করতে হবে: আইআরজিসি

ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার বলেছেন, ইরাকি পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটি থেকে সকল মার্কিন সেনাকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে।

শুধু তাই নয় সকল মার্কিন সেনাকে অবশ্যই ইসলামী দেশগুলি ত্যাগ করতে হবে।

ইরান সফররত ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লে. জেনারেল জুমা আনাদ সাদুনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি।

তিনি বলেন, শুধু যে ইরাকি পার্লামেন্ট মার্কিন সেনাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইন পাস করেছে তাই নয় একইসঙ্গে এটি ইরাকের আপামর জনসাধারণের প্রাণের দাবি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাদের ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলায়মানি ও ইরাকের হাশদ-আশ-শাবি বাহিনীর উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিস শাহাদাতবরণ করেন। ওই ঘটনার দু’দিন পর ইরাকের পার্লামেন্ট দেশটি থেকে সকল মার্কিন সেনাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিল পাস করে।

সাক্ষাতে জেনারেল সালামি আরো বলেন, যারা জেনারেল সোলায়মানি ও মুহান্দিসকে শহীদ করেছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবই। এক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি প্রতিশোধ গ্রহণের প্রক্রিয়া সমান তালে চলবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

সাক্ষাতে ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, স্পর্শকাতর সময়গুলোতে ইরান সব সময় তার দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি এজন্য তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।আনাদ সাদুন গত শনিবার ইরান সফরে আসেন। তিনি এরইমধ্যে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানিসহ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।#

আরও সংবাদ

ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ইরান

ফিলিস্তিনের প্রতি সব ধরনের সমর্থন দেয়া অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশ দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

বার্তায় দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসী ও বর্বর নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজকে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট রুহানি। তিনি বলেন, সাত দশকের বেশি সময় ধরে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিরা নিপীড়নের শিকার। এরপরও ইহুদিবাদী সরকার নতুন করে ফিলিস্তিনি ভখণ্ড সংযুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর অপরাধযজ্ঞ বাড়িয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মধ্যেও ইসরাইল নিরাপরাধ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে এবং গাজা উপত্যকার লোকজনের ওপর কঠোর অবরোধ দিয়ে রেখেছে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ইহুদিকরণের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ইসরাইল এগুচ্ছে তাতে শুধুমাত্র অধিকৃত ভূখণ্ডের পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিই হয় নি বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইসরাইলের এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজ কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।