ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন কোনোক্রমে মেনে নেয়া যায় না : সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ

সারা দেশে ভাস্কর্যের নামে যেভাবে মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে, তা কোনোক্রমে মেনে নেয়া যায় না। এক ধরনের বুদ্ধিজীবীসহ কিছু কুচক্রীমহল ভাস্কর্য স্থাপনকে কেন্দ্র করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে। তারা দেশ, জাতি ও ইসলামের দুশমন। কেউ কেউ আলেম-ওলামাদের নামে গালি-গালাজ ও অশালীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। যা কোনো বিচক্ষণ মানুষ মেনে নিতে পারে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি। তাকে বাংলাদেশের সকল জনগণ অবশ্যয় ভালোবাসবে। তাই বলে তাকে স্মরণ করতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে তার ভাস্কর্য তৈরি করতে হবে কেন? এভাবে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে দেশে আল্লাহর গজব টেনে আনা হচ্ছে। দেশের বিবেকবান জনগণ কোনোক্রমেই এ বিজাতীয় সংস্কৃতি মেনে নিবে না।

বুধবার সকালে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত আল্লামা জাফরুল্লাহ খান। ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান আল মাদানী। বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের চেয়ারম্যান মুফতি ফখরুল ইসলাম।

আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী। ইসলামী জনতার পার্টির সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ। খেলাফতে রব্বানীর আমীর মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী। টেকেরহাটির পীর মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। শর্শিনার ছোট পীর মাওলানা মাওলানা শাহ আরেফ বিল্লাহ সিদ্দিকি, মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন আকন্দ ও মাওলানা ইয়ামিন হোসাইন আজমী প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ ভাস্কর্যের নামে দেশব্যাপী মূর্তি স্থাপনের প্রতিবাদে আগামী ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতাকে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল সফল করার জন্য নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান।-বিজ্ঞপ্তি

আরো সংবাদ

ভারতের কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে বিতর্কে জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার পর তিনি আদৌ ঠিক কাজ করেছেন কি না, তা নিয়ে ভারতে উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতীয়রা অনেকেই যেমন ট্রুডোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তেমনি এ দেশে নেটিজেনদের একটা বড় অংশ আবার তাঁকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে দূরে থাকার’ পরামর্শ দিচ্ছেন।

অনেকে আবার মনে করছেন, ভারতে আন্দোলনরত কৃষকদের বেশির ভাগই যেহেতু পাঞ্জাবের শিখ, তাই কানাডায় শিখ বংশোদ্ভূতদের সমর্থন পেতেই ট্রুডো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই বিবৃতি দিয়েছেন। উদ্দেশ্য যা-ই হোক, ট্রুডোর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতীয়রা এখন যে কার্যত দুই ভাগ তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এর আগে সোমবার শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত একটি ফেসবুক ইন্টার-অ্যাকশনে অংশ নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, ভারতে কৃষক আন্দোলনের জেরে ‘পরিস্থিতি উদ্বেগজনক’ হয়ে উঠছে। ‘পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেকোনো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সব সময় কানাডার সমর্থন থাকবে’, সে কথাও তখন জানিয়েছিলেন তিনি।

ওই ভার্চুয়াল সভায় তখন ক্যাবিনেটে ট্রুডোর শিখ সদস্যরা ও লিবারেল পার্টির অন্য শিখ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এই মন্তব্য সামনে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানায়, একটি গণতান্ত্রিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে নাক গলানো সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

‘ভালো করে না জেনেশুনেই এ ধরনের মন্তব্য করা থেকে কানাডিয়ান নেতৃত্বের বিরত থাকা উচিত’, বলেন দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব। কিন্তু ট্রুডোর মন্তব্যকে সমর্থন করেও অনেক ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে শুরু করেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট প্রশান্ত ভূষণ টুইট করেন, ‘আমি খুব খুশি যে ট্রুডো ভারতে কৃষকদের অধিকারের পক্ষে মুখ খুলেছেন। সব বিশ্বনেতারই উচিত সব দেশে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সরব হওয়া।’ এই ইস্যুটাকে যে তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করছেন না, সেটাও স্পষ্ট করে দেন প্রশান্ত ভূষণ।

কেউ কেউ লেখেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি আমেরিকায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়ে নির্বাচনী প্রচার করতে পারেন, তাহলে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে কী দোষ করলেন? কমেডিয়ান কুনাল কামরা টুইট করেন, “নাও, এবার কানাডাতে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে গেল!” জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, যদি ফ্রান্স বা ইসরায়েলের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ নিয়ে ওই দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো যায় কিংবা বালোচদের স্বাধীনতার দাবিকে ভারত সমর্থন করতে পারে, তাহলে এখানে ট্রুডো কী দোষ করলেন?

শিবসেনার এমপি ও মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বলছেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে যেভাবে জাস্টিন ট্রুডো তার দেশের নিজস্ব রাজনীতির খোরাক হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন, সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’ আম আদমি পার্টির নেতা রাঘব চাড্ডা আবার টুইট করেছেন, ‘ভারতের নিজস্ব সমস্যা সামলানোর ক্ষমতা ভারতেরই আছে। অন্য দেশের নির্বাচিত নেতাদের এগুলো নিয়ে মন্তব্য করার কোনো দরকারই নেই!’

ক্ষমতাসীন বিজেপির সিনিয়র নেতা রাম মাধব আরো চাঁছাছোলা ভাষায় কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ভারতের নিজস্ব ব্যাপারস্যাপার নিয়ে কথা বলার কী এখতিয়ার ট্রুডোর আছে?’ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য থাকলেও বিপুলসংখ্যক ভারতীয় যে জাস্টিন ট্রুডোর পদক্ষেপকে সমর্থনও জানাচ্ছেন, সেটা বিস্মিত করেছে দিল্লিতে সুপরিচিত সাংবাদিক ও টিভি অ্যাঙ্কর বীর সাংভিকে। বীর সাংভি তাঁর নিজস্ব কলামে এদিন লিখেছেন, ‘জাস্টিন ট্রুডোর মন্তব্যকে হয়তো জাস্টিন বিবারের মন্তব্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কোনো দরকার নেই। কিন্তু বহু ভারতীয় ট্রুডোর কথায় যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, সেটাই আমাকে উদ্বিগ্ন করছে।’

ভারতে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে এখন মুখ খুললেও কানাডা যে অতীতে ভারতে কৃষি ভর্তুকির বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে, সেটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। ‘দ্য প্রিন্টে’র ডিপ্লোম্যাটিক এডিটর নয়নিমা বসু জানাচ্ছেন, ভারতের কৃষি ভর্তুকির বিরুদ্ধে যে দেশগুলো বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় সবচেয়ে বেশি সরব তার অন্যতম হলো কানাডা।

চালের ওপর ভারতের যতটা ভর্তুকি দেওয়ার অধিকার আছে, মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বাহানায় ভারত তার চাষিদের তার চেয়ে অনেক বেশি ভর্তুকি দিয়েছে – এই মর্মে বছর দুয়েক আগেই ডাব্লিইটিওতে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করেছিল কানাডা। অথচ এই মুহূর্তে ভারতে কৃষকরা যে আন্দোলন করছেন, তাতে তাঁদের প্রধান দাবিই হলো কৃষিপণ্যের জন্য ভর্তুকিসহ মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস বহাল রাখতে হবে।