মসজিদে চুমু খেয়ে ঢুকলেন আজেরি প্রেসিডেন্ট, রাখলেন কুরআন

আর্মেনিয়ার কাছ থেকে সদ্য মুক্ত হওয়া আজারবাইজানের আগদাম প্রদেশ সফরে গেলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

সোমবার তার স্ত্রী মেহরিবান আলিয়েভ তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে একটি ভিডিও আপলোড করেন।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, আগদামের একটি মসজিদে প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ এবং তার স্ত্রী ও প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহরিবান আলিয়েভকে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করছেন। এসময় তিনি ও তার স্ত্রী মসজিদের ফটকে চুমু খেয়ে তাতে প্রবেশ করেন। এসময় তিনি ও তার স্ত্রী কুরআনে চুমু খেয়ে সেটি মসজিদে রাখেন।

এসময় কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেন মেহরিবান আলিয়েভ। প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ জানান, এই ফুটেজ আগদামের যাওয়ার রাস্তায় পড়ে। আজেরি সেনাবাহিনী কোন বুলেট ব্যবহার না করেই আগদাম বিজয় করেছে।

এসময় আলিয়েভ আর্মেনিয়দের হাতে ধ্বংস হওয়া এলাকা দেখিয়ে বলেন, সমগ্র বিশ্বকে এসব দেখা উচিত। এখানে ভাল কোন স্থাপনা নেই। সব আর্মেনিয়রা ধ্বংস করে ফেলেছে।

সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দুই দেশের মধ্যে নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে যুদ্ধ চলে আসছে বহু আগে থেকেই। ১৯৯১ সোলে আর্মেনিয়া যখন নাগার্নো-কারাবাখ দখল করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

পরে চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ হলেও সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর আবারো দুই দেশ যুদ্ধে জড়ায়। পরে আর্মেনিয়া গত ১০ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইানের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।

৪৪ এই যুদ্ধে বাকু ৩০০টির বেশি এলকা দখলমুক্ত করে।

চুক্তিটি আজারবাইজানের জয় ও আর্মেনিয়ার পরাজয়ের দলিল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

আরও পড়ুন: ব্যবসায়, সামরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে পাকিস্তান ও রাশিয়া

পাকিস্তান ও রাশিয়া বুধবার তিন দিনের যৌথ আন্ত-সরকার পর্যায়ের আলোচনা শেষ করেছে। বৈঠকে নর্থ-সাউথ গ্যাস পাইপলাইন প্রজেক্ট (এনএসজিপিপি) চুক্তিটি সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এই চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। করাচি থেকে কাসুর পর্যন্ত এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের জন্য এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

রাশিয়ান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রতিনিধি ডি এল কাপনিক। পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্টার স্টেট গ্যাস কোম্পানির (আইএসজিএস) ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিস সায়রা নাজিব।

নর্থ-সাউথ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প

২০১৫ সালে রাশিয়া আর পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা করেছিল। এই প্রকল্পের অধীনে করাচি থেকে কাসুর পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন করা হবে, যেটার মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে। পাকিস্তানের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটির জ্বালানি সঙ্কট রয়েছে এটা সেই ঘাটতি দূর করতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে।

প্রকল্পের কাজ অনেক বার বিলম্ব হয়েছে এবং মাঝখানে ৫ বছর চলে গেছে। রাশিয়া সবসময় এই প্রকল্পের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়ে এসেছে। এই চুক্তি রাশিয়ান কোম্পানিগুলোর জন্য পাকিস্তানের বাজার খুলে দেবে। এখান থেকে দুই পক্ষই উপকৃত হবে।

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চুক্তি ছাড়াও রাশিয়া আর পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে। ২০১৮ সাল থেকে যৌথ মহড়ার জন্য পাকিস্তানে অবস্থান করছে রাশিয়ান সেনারা। পাকিস্তান সে সময় রাশিয়ার সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি করে, যে চুক্তির অধীনে রাশিয়া পাকিস্তান সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে।

পাকিস্তান আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হলে ওই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেটার কারণে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে সামরিক বিনিময় কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।

পাকিস্তান ও রাশিয়া ২০১৪ সালে প্রথশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করেছিল। দুই দেশি একে অন্যের ভূখণ্ডকে সন্ত্রাস দমন মহড়ায় ব্যবহার করেছে। চুক্তির অধিনে রাশিয়া পাকিস্তানের কাছে চারটি এমআই-৩৫এম কমব্যাট হেলিকপ্টারও বিক্রি করেছে। দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যেও বিনিময় রয়েছে।

পাকিস্তান-রাশিয়ার অতীত সম্পর্ক

শীতল যুদ্ধকালীন সময়ে বিশেষ করে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের পর পাকিস্তান আর রাশিয়ার সম্পর্ক ছিল টালমাটাল, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আর আফগান মুজাহিদিনদের সরাসরি সহায়তা করেছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের ঘাঁটিগুলো তখন সামরিক মহড়া এবং সোভিয়েত বিরোধী গোপন অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

রাশিয়া তখন থেকেই পাকিস্তানের প্রতিবেশী ভারতের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। দুই দেশের শক্তিশালী বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো না হলেও দুই দেশের সাথেই ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছে ভারত, যেটা পাকিস্তান এর আগে করতে ব্যর্থ হয়েছে।