শ্রীলঙ্কার জলসীমায় চীনের গবেষণা জাহাজ, উদ্বেগে ভারত

শ্রীলঙ্কার জলসীমায় চীনের দুটি গবেষণা জাহাজের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে যে নৌ অভিযান পরিচালনার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজে জাহাজগুলো নিয়জিত। বিশেষ করে সাবমেরিনের বিচরণের জন্য এসব তথ্য কাজে লাগে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, গত এক মাসের মধ্যে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় দুটি চীনা গবেষণা জাহাজ পৌছে।

ঘটনাক্রমে গত এক দশক ধরেই চীনের জরিপ ও গবেষণা জাহাজগুলো নিয়মিত শ্রীলঙ্কা ও আশাপাশের সমুদ্রে বিচরণ করছে।

২০১২ সালের দিকে চীনের গবেষণা জাহাজগুলোর তৎপরতা বাড়তে শুরু করে। তখন থেকে শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের জাহাজের অবস্থান নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়।।

একটি সূত্র বলে, এসব জাহাজকে আপাত দৃষ্টিতে চীনের রত্ন নৌবহরের জাহাজ এডমিরাল ঝেং হি অনুসন্ধানের কাজ করছে। জাহাজটি ১৫ শতকে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবে গিয়েছিলো। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের সময় জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানের জন্য সমুদ্রে জরিপ চালাতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রস্তুত করা এক নোটে বলা হয়েছে, চীনা জরিপ ও গবেষণা জাহাজগুলোর উপস্থিতি এই প্রশ্ন তৈরি করেছে যে সেগুলো শুধু ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানের কাজ করছে কিনা।

১২টি ঘোষিত সফর

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১২টি ঘোষিত সফরের পাশাপাশি চীনা জাহাজগুলো আরো অনেক অঘোষিত সফর করেছে, যা শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের মনযোগ আকর্ষণ করেনি।

সূত্র বলে, এসব জাহাজ কেন সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের জায়গা উপকূলের কাছাকাছি থেকে অনুসন্ধান না করে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান করছে?

নোটে আরো উল্লেখ করা হয়, শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও এসব জাহাজ শ্রীলঙ্কার এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনে তাদের তৎপরতা ও গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।

নোটে উল্লেখ করা হয়, গবেষণা জাহাজগুলো মূলত নৌ অভিযান পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রাথমিক উপাত্ত সংগ্রহ করছে। শ্রীলঙ্কার পানিসীমায় তৎপরতা চললেও অন্যান্য দেশের জন্যও জাহাজগুলো উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নাজুক সামুদ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

প্রকল্প প্রধানের সঙ্গে চীনা সেনাবাহিনীর যোগ

বলা হচ্ছে যে ধ্বংসাবশেষ অনুষন্ধান প্রকল্পের প্রধান হলেন প্রফেসর হু চাঙ্গিং। তিনি চায়না একাডেমি অব সাইন্সের একটি গবেষণাগারের পরিচালক। তবে তিনি চীনের সামরিক প্রকল্পগুলোর সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত বলে নোটে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে সাবমেরিন সোনার সিস্টেম তৈরির প্রকল্পে তিনি জড়িত।

সূত্র: দি প্রিন্ট

‘বেল্ট অ্যান্ড রোডে’ হামলার মাস্টারমাইন্ড ভারত, তথ্য-প্রমাণ হাজির করলো পাকিস্তান

১৪ নভেম্বর ইসলামাবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের বিস্তারিত তথ্য প্রামাণ তুলে ধরেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার। পাশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি (বাঁয়ে),।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের (বিআরআই) গুরুত্বপূর্ণ অংশ চায়না-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরে (সিপিইসি) সন্ত্রাসী হামলায় ভারত কীভাবে সহায়তা করছে তার বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ (ডসিয়ার) জাতিসংঘে পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করেছে পাকস্তিান সরকার।

এই ডসিয়ারে প্রমাণ হিসেবে চিঠি, ছবি, অডিও ও ভিডিও ক্লিপসহ অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে। শনিবার ইসলামাবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার এসব কথা বলেন।

কোরেশি বলেন, ২০০১ সাল থেকে পাকিস্তানে ১৯,১৩০টি সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এতে ৮৩,০০০ মানুষ হতাহত হয় এবং দেশের অর্থনীতির ১২৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ৯/১১ ঘটনার পর প্রাণ ও সম্পদ উভয় ক্ষেত্রে পাকিস্তান কোরবানি দিয়েছে। অন্যদিকে ভারত ব্যস্ত ছিলো তার নিজের ভূখণ্ড এবং পাকিস্তানের পাশের প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বিস্তার করায়।

পাকিস্তান এখন ভারতের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তথ্য প্রমাণ জাতিসংঘ, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কাছে পেশ করবে বলে কোরেশি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন যে সিপিইসি ও বালুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধির মধ্যে সুস্পষ্ট আন্ত:সম্পর্ক রয়েছে।

পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান প্রায়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনে। তবে এই প্রথম ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের তথ্য-প্রমাণ নিয়ে প্রকাশ্যে হাজির হলো পাকিস্তান। ডসিয়ারে ভারত যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে তার অকাট্য প্রমাণ আছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতিখার বলেন, পাকিস্তানের সিপিইসি-তে নাশকতা চালানোর জন্য ৭০০ সদস্যের মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করেছে পাকিস্তান। তিনি বলেন, এই মিলিশিয়া বাহিনীকে ১৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এর নীতি নির্ধারণী কমিশনে ভারত [রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং, বা র]-এর ১০ জন অপারেটিভ রয়েছে।

২০১৯ সালে বন্দর নগরী গোয়াদারের পার্ল কন্টিনেন্টাল হোটেলে সন্ত্রাসী হামলার পেছনে ‘র’ কর্মকর্তা অনুরাগ সিং ছিলেন মাস্টারমাইন্ড, এর প্রমাণ পাকিস্তানের হাতে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। গোয়াদার হলো ৫০ বিলিয়ন ডলারের সিপিইসি’র প্রবেশদ্বার।

সেনা মুখপাত্র আরো উল্লেখ করেন যে জুনে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে হামলার নীল নকশা করার কাজে ভারতীয় গোয়েন্দারা সরাসরি জড়িত ছিলো। এই এক্সচেঞ্জে চীনা কোম্পানিগুলোর ৪০% মালিকানা রয়েছে।

ইফতিখার আরো উল্লেখ করেন যে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের আড়ালে সশস্ত্র বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদিদের টাকা দিচ্ছে ভারত এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ২৩.৩৫ মিলিয়ন ডলারের এ ধরনের চারটি লেনদেনের ঘটনা উদঘাট করেছে। সূত্র: নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ

সন্ত্রাসের দায়ে ভারতকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে: ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালানো ও হাজার হাজার নিরীহ-নিরপরাধ পাকিস্তানিকে হত্যার দায়ে ভারতকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত ভারতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চিরতরে বন্ধ করতে বিশ্বকে কাজ করতে।

এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতেখার।

সেখানে তারা সন্ত্রাসে নয়াদিল্লির জড়িত থাকার ও পৃষ্ঠপোষকতার অকাট্য প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন দলিল উপস্থাপন করেন। এরপরই শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার দায়ে ভারতকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদে ভারতের জড়িত থাকার অকাট্য তথ্যপ্রমাণ আমরা উপস্থাপন করেছি।

পাকিস্তানের ভিতরে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে এসব তথ্যপ্রমাণ বিশ্বের সব দেশের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এসব প্রমাণ পাওয়ার পরও ভারতের এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বাকি বিশ্ব উদাসীন বা চুপ করে বসে থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, ভারতীয় এই সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নয়াদিল্লিকে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি হাজার হাজার নিরীহ-নিরপরাধ পাকিস্তানি জনসাধারণকে হত্যার জন্য ভারতকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখতে হবে।

শনিবার ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি এবং দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেন, পাকিস্তানের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা এবং চীন-সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ভারত। আর এ মিশন সফল করতে নয়াদিল্লি প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে হামলার পরিকল্পনা করছে।

তারা আরো বলেন, ভারতীয় এজেন্টরা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান সীমান্তে হামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোরেশি বলেন, ভারত তাদের ভূমি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।

নয়াদিল্লি প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে বলেও দাবি করেন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তুরস্ক ও উত্তর সাইপ্রাস ‘কূটনৈতিক খেলা’ আর সহ্য করবে না: এরদোগান

দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভিত্তিতে সাইপ্রাস দ্বীপের সমস্যার আলোচনার কথা উল্লেখ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেন, তুরস্ক এবং উত্তর সাইপ্রাস (টিআরএনসি) পূর্ব ভূমধ্যসাগরে হাইড্রোকার্বন সংস্থান সম্পর্কে আর কোনো ‘কূটনৈতিক খেলা’ সহ্য করবে না।

রোববার উত্তর সাইপ্রাসের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সেখানকার রাজধানী নিকোশিয়াতে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি একথা বলেন। এরদোয়ান বলেছেন, সাইপ্রাসে দুই ধরণের জনগণের অবস্থান এবং দুটি পৃথক রাষ্ট্র রয়েছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, সাইপ্রাস ইস্যু সমাধানের জন্য সার্বভৌম সাম্যের ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য আলোচনা করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক উত্তর সাইপ্রাসের বৈধ অধিকার এবং নিরাপত্তা প্রদানের টেকসই সমাধানকে অগ্রাধিকার দেয়।

উল্লেখ্য, তুরস্ক, গ্রিস এবং ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে সাইপ্রাস। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটির তুর্কি ও গ্রিক জনগোষ্ঠীর মাঝে চলা দ্বন্দ্ব-সংঘাতের জেরে ১৯৭৪ সালে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে সাইপ্রাসের উত্তরাংশে তুর্কি সাইপ্রিয়ট এবং দক্ষিণাংশে গ্রিক সাইপ্রিয়টরা বসবাস করে আসছে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ

আজেরি সেনাদের হাতে আর্মেনিয়ার ২৩শ’ সেনা নিহত

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধে আর্মেনিয়ার দুই হাজার ৩০০ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করছে বলে তারা জানিয়েছে।

এদিকে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নাগোর্নো-কারাবাখের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর শুশা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আর্মেনিয়ার আরও কিছু সেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এসব মরদেহ আর্মেনিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মানবিক বিবেচনায় রাশিয়ার শান্তিরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে এসব সেনার মরদেহ উদ্ধার এবং হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে শনিবার (১৪ নভেম্বর) আর্মেনিয়ার ক’জন সেনার মরদেহ উদ্ধার ও হস্তান্তর করা হয়েছে তা জানানো হয়নি।

অবশ্য আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ছয়জন সেনার মৃতদেহও উদ্ধার হয়েছে এবং সেগুলোর হস্তান্তর প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।

গত ১০ নভেম্বর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে সেখান রুশ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র: পার্সটুডে

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট থেকে জোর করে নামিয়ে দেয়া হল মুসলিম নারীকে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে একজন মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট নারীকে অন্যায়ভাবে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আমানি আল খাতাতবেহ নামের ওই নারী নিজেই টুইট বার্তায় এমন অভিযোগ করেছেন।পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জানা গেছে, শনিবার ফ্লাইটে প্রবেশের ঠিক আগে নিয়ম না মেনে একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ যাত্রী চেকপয়েন্টের লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। এর প্রতিবাদ করায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন আমানি।

পরে ওই ব্যক্তি অভিযোগ জানালে আমানিকে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট থেকে অন্যায়ভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ওই নারীকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ দেয়া শ্বেতাঙ্গ পুরুষ প্রথম শ্রেণির যাত্রী ছিলেন।

এক টুইট বার্তায় আমানি বলেন, একজন মুসলিম নারী হিসেবে ফ্লাইটে উঠলে অনেক মানুষের সমস্যা হয়, এটা অবিশ্বাস্য। আমানিকে নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে বলে মার্কিন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

গার্ডিয়ান বলছে, মুসলিম নারী অ্যাকটিভিষ্টকে নামিয়ে দিলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমানি আল খাতাতবেহ নামে ওই নারী অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে ফ্লাইট কর্তৃপক্ষ তাকে গালি দেয়। নিউজার্জির ঘটনাটি তিনি টুইটারে পোস্ট করার এক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের হাতে তিনি গ্রেফতার হন।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প সমর্থকদের সমাবেশে সংঘর্ষ; আহত ২০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় অস্বীকার করে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেছেন হাজারো সমর্থক। ট্রাম্প সমর্থকদের সঙ্গে বর্ণবাদ বিরোধীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে ‘মিলিয়ন মেগা মার্চ’ নামের ওই সমাবেশ করা হয়। সমর্থকদের ওই সমাবেশে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরাবরের মতোই তিনি সেখানে অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে।

১৪ নভেম্বর শনিবার সকাল থেকেই ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে লোক জমতে শুরু করে। ‘স্টপ দ্য স্টিল’, ‘উই আর চ্যাম্পিয়ন’, ‘ফোর মোর ইয়ারস’, ‘বেস্ট প্রেসিডেন্ট এভার’ প্রভৃতি স্লোগান লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে লোকজনের সমাবেশ ঘটতে থাকে।

হোয়াইট হাউসের কাছেই ফ্রিডম প্লাজায় লোকজন প্রথম জড়ো হয়। পরে শোভাযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে গলফ ক্লাবের উদ্দেশে যাওয়ার পথে থামেন কিছুক্ষণের জন্য। এ সময় ট্রাম্পের সমর্থনে মুহুর্মুহু স্লোগান ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাবেশকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।

সারাদিন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু রাত গভীর হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প সমর্থক এবং ট্রাম্প বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এ পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে, একজনকে চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

পুলিশ সমাবেশ স্থল ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে অন্তত ১০ জনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে। সূত্র: পার্সটুডে

সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক; তথ্য-প্রমাণ যোগাড় করছে পাকিস্তান

সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ তুলে ধরার কাজ শুরু করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের পর নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে পাকিস্তান এসব তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাদের মর্টার এবং রকেটের হামলায় পাক সীমান্তের কয়েক ডজন বেসামরিক ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভারতীয় বাহিনীর হামলায় একজন পাকিস্তানী সেনা ও পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এছাড়া, পাকিস্তানের আর ৩৩ ব্যক্তি আহত হয়।

ভারতীয় বাহিনীর হামলার জবাবে পাকিস্তানি সেনারা গুলি চালিয়েছে এবং ভারতের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারত বরাবর কাশ্মীর অঞ্চলে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সমর্থন দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে।

তবে এবার ভিন্ন ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান বলছে, ভারত আগে আগ্রাসন চালিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইসলামাবাদ বলছে, নয়াদিল্লি পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি ৮৭টি সন্ত্রাসী ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করেছে। এরমধ্যে ২১টি ভারতে এবং ৬৬ আফগানিস্তানের ভেতরে।