মিথ্যা কথা বললে আয়ু কমে যায়: মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এনটিভি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিশ্বে মিথ্যা কথা বলার ওপর কোনো পুরস্কার থাকলে সেটা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই পেতেন।

মির্জা ফখরুলের জেনে রাখা উচিত মিথ্যা কথা বললে মানুষের আয়ু কমে যায়।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাস পুড়িয়ে বিএনপি এর দায় উল্টো অন্যদের ওপর চাপাচ্ছে।’ আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

এ সময় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পুরো বিশ্ব করোনায় বিপর্যস্ত। আমাদের দেশের মানুষ করোনা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় বিএনপি আবারও আগের খেলায় মেতে উঠেছে।

বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে ও বাসে আগুন দিয়ে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণ দলটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মন থেকে বিএনপি যোজন যোজন দূরে চলে যাচ্ছে। এ দলটি একটি সন্ত্রাসী দল।

কানাডার আদালতেও বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করে রায় হয়েছে।’ উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপির কর্মসূচির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসে জেতার জন্য নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং তাদের দলকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে।

তাদের আন্দোলন অগণতান্ত্রিক। জনগণই এটা প্রতিহত করবে।’ উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া নিয়ে জানতে চাইলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এতেই প্রমাণিত হয়েছে ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোনো ধরনের কারচুপি হয়নি। তা ছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে ভোটার উপস্থিতি কিছু কম হতে পারে।

আরো পড়ুন: হোয়াইট হাউজেও একদিন কালেমার পতাকা উড়বে !

বাংলাদেশ তালীমে হিযবুল্লাহ’র আমীর সোনাকান্দা দরবার শরীফের পীর হযরত মাওলানা মাহমুদুর রহমান বলেছেন, সারাবিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ইহুদি নাছারারা ভীত হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে।

তবে সকল ষড়যন্ত্রের জাল চিহ্ন করে ইসলামের বিজয় হবেই। সেদিন আর বেশি দূরে নয় যে দিন আমেরিকার হোয়াইট হাউজে ইসলামের পতাকা, কালেমার পতাকা পতপত করে উড়বে। ব্রিটেনের বড় বড় অট্টালিকায় কলেমার পতাকা উড়বে।

ফ্রান্স সরকারের মদদে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর কল্পিত ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বাদ জুমা বায়তুল মোকররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশের পর বিশাল মিছিল বায়তুল মোকাররম প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। মাওলানা মাহমুদুর রহমান বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে, ক্ষত বিক্ষত মন নিয়ে, দ্বীনি দায়িত্ব পালনে এখানে একত্রিত হয়েছি। ফ্রান্স সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রিয়নবীর কল্পিত ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে।

আমাদের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। নবীজীকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র আগেও হয়েছে। কিন্তু এ ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হবে না। উল্টো যারা নবীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করছে তারাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলেছেন, যারা আল্লাহ এবং রাসুলকে (সা.) কষ্ট দেবে,

রাসুলকে নিয়ে কটূক্তি করবে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাঁখওকে আবুজাহেল ও ওয়ালিদ ইবনে মুগীরার উত্তরসুরী উল্লেখ করে সোনাকান্দা দরবারের পীর সাহেব বলেন, এই ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন, তা না হলে মুসলমানদের হাতে চরম অপমানিত হতে হবে।

ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ও সে দেশের পণ্য বর্জনেরও তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে মুসলমানের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এটা দেখে মুসলিম বিরোধীরা ভীত হয়ে নানা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করছে। তবে কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না।

সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন আমেরিকার হোয়াইট হাউজে ইসলামের পতাকা, কলেমার পতাকা পতপত করে উড়বে। ব্রিটেনের বড় বড় অট্টালিকায় কলেমার পতাকা উড়বে। জার্মানির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যে হারে মুসলামানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ২০৭০ সালে জামার্নি হবে মুসলমানদের দেশ।

মাওলানা মাহমুদুর রহমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নবীজীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অবমাননারকারীর মৃত্যুদন্ডের বিধান করে সংসদে আইন পাশ করতে হবে। আমরা আপনাদের সাথে থাকবো। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান মুসলামনদের পক্ষে ভূমিকা রাখছেন।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনিও মুসলমানদের পক্ষে ভূমিকা রাখুন। এদেশের আলেম ওলামা এবং মুসলিম জনতা আপনার সাথে সব সময় থাকবে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, তালীমে হিযবুল্লাহ’র মহাসচিব মুফতি মুতাতিলব হোসেন সালেহী, নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসাইন, যুব কাফেলার সেক্রেটারি হযরত মাওলানা মিজানুর রহমান মাহমুদী,

ছাত্র কাফেলার সভাপতি, সাইদুল ইসলাম আলামিন প্রমুখ। বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর কল্পিত ব্যঙ্গ চিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশ উপলক্ষে সকাল এগারটা থেকে মুসুল্লিরা বায়তুল মোকাররমে জড়ো হতে শুরু করে। দুপুর ১২টার মধ্যে বায়তুল মোকাররম মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

এ ছাড়া কুমিল্লার সোনাকান্দা থেকেও কয়েক হাজার মুসল্লি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিতে আসেন। মসজিদে যখন খতিবের বয়ান চলচ্ছিল তখন হঠাৎ তিন তলায় আগুন লেগেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। মুসল্লিরা তখন ভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বভাবিক হলে খুৎবা শুরু হয়। তবে এসময় সাউন্ড ছিল না।

আরো পড়ুন: সারা বিশ্বের মুসলমানদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক: বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বলে মনে করছেন অনেকেই। ইতিমধ্যে তার সংগ্রহ ২৬৪ টি ইলেকটোরাল ভোট।

আর ৬ টি ইলেকটোরাল ভোট পেলেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হবেন। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে জো বাইডেন নামটি এখন সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এমন সময়ে তার নিজ মুখে বলা একটি হাদীস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

যেখানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যাচ্ছেঃ “হযরত মোহাম্মদের একটি হাদীসে নির্দেশ করা হয়েছেঃ তোমাদের কেউ কোনো অন্যায় সংঘটিত হতে দেখলে সে যেন তা নিজ হাতে প্রতিরোধ করে।

তা সম্ভব না হলে যেন মুখে প্রতিবাদ করে। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে যেন মন থেকে ঘৃণা করে

আরো পড়ুন: মুসলিম শিশুদের ১০ বছরের অধিককাল ধরে কোরআন শেখান বৃদ্ধ খ্রিস্টান !

মিসরের মাইনা অঞ্চলে বসবাস করেন ৮০ বছর বয়সী ইয়াদ হানা শাকের। ১০ বছরের অধিককাল ধরে মুসলিম শিশুদের কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ শিখিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

অনেকেই তাঁর ভিন্নধর্মী এ কাজে বিস্ময় প্রকাশ করেন। ইয়াদ হানা ছোটবেলায় মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে স্থানীয় মাদরাসায় কোরআন হিফজ করেছিলেন। কোরআনের প্রতি ভালোবাসা লাভ করেন পিতার কাছ থেকে পরবর্তী সময়ে নিজের বাড়িতে হেফজ মাদরাসা খোলেন।

শত শত মুসলিম ও খ্রিস্টান শিশু তাঁর কাছ থেকে কোরআন পাঠ শিখতে আসে। মুসলিম ও খ্রিস্টান শিশুদের অনেকে তাঁর কাছে হিফজ সম্পন্ন করেছে। ভিন্নধর্মের অনুসারী হলেও ইয়াদ শিক্ষার্থীদের কাছে কোরআনের শিক্ষা তুলে ধরেন।

সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে নামমাত্র অর্থ গ্রহণ করেন তিনি। তবে কাউকে তিনি অর্থ প্রদানে বাধ্য করেন না। ইয়াদ বলেন, আল্লাহর কথা শেখানো তাঁর সবচেয়ে পছন্দের কাজ। কারণ কোরআনের প্রতি ছত্রে মিশে আছে ভালোবাসা ও অনুকম্পার শিক্ষা।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর সঙ্গে বসবাসের নীতি ও সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত সবার। বয়োবৃদ্ধ শিক্ষক ইয়াদকে তাঁর গ্রামের সবাই খুব ভালোবাসে ও সম্মান করে।

সূত্র : আলজাজিরা

আরো পড়ুন: গুগল র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের সেরা মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সা.) !

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামান