মায়ের সেবাসহ ৩ শর্তে সাজাপ্রাপ্ত আসামি থাকবেন পরিবারে

৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের সেবা ও পরিবারের সঙ্গে বসবাসসহ তিন শর্তে মাদক মামলায় দণ্ডিত আসামির সাজা বহাল রেখে প্রবেশন প্রদান করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মতি মাতবরের করা এক রিভিশন মামলার শুনানি নিয়ে রোববার (৮ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। আসামিকে জেলে না পাঠিয়ে পরিবারের সঙ্গে থাকার প্রবেশন প্রদান করে রায় ঘোষণা করা হয়।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামিকে প্রবেশন দিয়ে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায় এটি। তারা জানান, মাদক মামলায় পাঁচ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মতি মাতবর জেলে নয়, থাকবেন পরিবারের সঙ্গে। তবে মানতে হবে কয়েকটি শর্ত। দেড় বছর ধরে তিনি থাকবেন প্রবেশন অফিসারের অধীনে।

যে শর্ত মানতে হবে, ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের যত্ন নিতে হবে। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে। আইন অনুসারে নির্ধারিত বয়সের আগে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন না। এসব শর্ত না মানলে তাকে জেলে যেতে হবে।

আদালতে এদিন আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. রুহুল আমীন এবং মো. আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.এনামুল হক মোল্লা।

আরও পড়ুন: রায়হান হত্যা: অবশেষে গ্রেফতার এসআই আকবর

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবরকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
তাকে কানাইঘাট সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের পরিদর্শক আওলাদ হোসেনকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

সোমবার সিলেট পিবিআই পুলিশ সুপার খালেদ উজ জামান জানান, মামলা তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ের ৮ কর্মকর্তা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

আলোচিত এ হত্যা মামলায় কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুনুর রশীদ রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।

রিমান্ডে রয়েছেন এএসআই আশেক ই এলাহী। এছাড়া নিহত রায়হানকে ছিনতাকারী হিসেবে অভিযোগকারী শেখ সাইদুর রহমান। এছাড়াও পিবিআই কাছে রিমান্ডে রয়েছেন এএসআই আশেক এলাহি।

গত ১১ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে রায়হানকে সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্যাতনে রায়হান মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি পরদিন হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।