চাটখিলে সাংবাদিক আলাউদ্দীনের পিতা  মহাম্মদ আলী তরফদারের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী চাটখিলে সাংবাদিক আলাউদ্দীন পিতার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

আজ ২৯শে জুন মরহুম মহাম্মদ আলী তরফদারের ১০ম মৃত্যু বার্ষিকী। পারিবারিক ভাবে প্রতি বছরের ন্যায় পালিত হয়েছে মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৪০ সালে নোয়াখালী জেলার চাটখিল বাজারের নিকটস্থ তপদার বাড়ীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে ২ছেলে এবং ৪ মেয়ের জনক তিনি ।

তার দুই ছেলে, বড় ছেলে মোঃ মহিন উদ্দিন তপাদার, একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ও ছোট ছেলে মোঃ আলা উদ্দিন, পেশায় একজন সাংবাদিক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ জেলায় থাকা কালীন মুক্তিযুদ্ধাদের সহায়তা করার কারণে আল-বদর-রাজাকার বাহিনী তার দোকান পুড়িয়ে দেয়। তখন থেকে তার জীবন সংগ্রাম শুরু হয়।

যুদ্ধের পরে তৎকালীন রামগঞ্জ থানায় থাকা কালীন সর্ব প্রথম ১৯৮০ সালে ১৭নং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালে ১৭নং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি এর সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ২৮ বছর যাবৎ চাটখিল বাজারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী হিসাবে সুনাম অর্জন করেন।

১৯৯০ সালে বাজার কমিটির নির্বাচনে সেক্রেটারী পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটানা ৯ বৎসর বাজার পরিচালনা করেন এবং তখন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদাধিকার বলে ঐ কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালের পরে চাটখিল থানা বিএনপি এর দপ্তর সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯২ সালে ৬নং পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ বিএনপি এর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সাংসদ চাটখিল পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করার পর তাকে প্রাথমিক ভাবে পৌরসভা বিএনপি সভাপতি হিসাবে নির্বচিত করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা পৌর সভাপতি হিসাবে কিছু দিন দায়িত্ব পালন করেন ।

১৯৯৫ সালে চাটখিল মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে পুণরায় পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে আহ্বায়ক হিসাবে নির্বাচিত করেন। ১৯৯৯ সালে চাটখিল মহিলা মহাবিদ্যালয়ের গভের্নিং বডির নির্বাচনে জয় লাভ করেন। ২০০২ সালে পৌরসভা বিএনপির পূর্নাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন।

২০০৩ সালে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য পদে নির্বাচিত হন । একই বছর ২০০৩ সালে নোয়াখালী জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে তিনি চাটখিল পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ।

সর্বশেষ ২০০৬ সালে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুণরায় তাকে পৌর-সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করা হয়, এছাড়াও চাটখিল বড় মসজিদ ও মাদ্রাসা সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি

। ২০০৭ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন তত্বাবদায়ক সরকারের প্রধান ফখরুদ্দিন আহম্মদ এর আমলে তাকে বিনা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিভিন্ন ভয়-ভিতী প্রদর্শন করে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এই গুণী রাজনীতিবিদ ২০১১ সালের জুন মাসের ২৯ তারিখে তার নিজ বাড়িতে মৃত্যু বরণ করেন।