৪টি ডায়েরিতে দৈনিক তার সাথে ঘটে যাওয়া যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য লিখে গেছেন মুনিয়া

২০২০ সাল থেকে দৈনিক ডায়েরি লিখত মুনিয়া। সে লিখেছে তার উপর চলা ……

রাজধানীর গুলশানের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক কলেজছাত্রীর ঝু’লন্ত ম’রদেহ উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। তিনি মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাটটি থেকে ম’রদেহটি উ’দ্ধার করা হয়। ত’রুণীর বাড়ি কুমিল্লা শহরে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে মুনিয়ার বাড়ি কুমিল্লা মনোহরপুর সোনালী ব্যাংকের পেছনে সেতারা সদনে গিয়ে দেখা যায় সুনশান নিরবতা।

বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুর রহমান ও কাজী সেতারা বেগম দম্পতির তিন স’ন্তান। বড় ছেলে আশিকুর রহমান। মেজ মে’য়ে নুসরাত জাহান ও ছোট মেয়ে মুনিয়া। মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান জানান, তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন।

তাদের বাবা- মা কেউ বেঁ’চে নেই। তার বাবা বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুর রহমান। মা সেতারা বেগম ছিলেন সোনালী ব্যাংকের কর্মক’র্তা। মেজ বোন নুসরাত গৃহিণী। থাকেন কুমিল্লায়। ছোট বোন মুশরাত জাহান কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পাঁচ বছর আগে ঢাকায় চলে যান। গত বছর এসএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন মিরপুর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। টুকটাক মডেলিং ও অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে খুব ভালো ছবি আঁকতে পারতেন।

আশিকুর রহমান জানান, মুনিয়া গত পাঁচ বছর ধ’রে ঢাকায় থাকে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে তিন ভাইবোনের মাঝে টানপোড়েন হয়। এ সংক্রান্ত একটি মা’মলা আ’দালতে বি’চারাধীন।

আশিকুর রহমান সবুজ আরও জানান, সোমবার (২৬ এপ্রিল) ইফতারের সময় তার মেজ ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান ফোন করে জানান তার ছোট বোন মুনিয়া আর বেঁ’চে নেই। তারপর সারা রাত ঘুমাতে পারেননি।

আশিকুর রহমান সবুজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার বোন মুনিয়া কোনোভাবেই নিজের জীবন শেষ করতে পারে না। সে খুব আ’ত্মপ্রত্যয়ী একটা মে’য়ে। নিশ্চয় এটার পেছনে র’হস্য আছে। কারণ ছোট বেলা থেকেই আশিকুর রহমান তার বোনকে কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন।

তার বোন ভালো আর্ট করতে পারত। টুকটাক মডেলিং করত। সে কেন ফাঁ’স দেবে। মুনিয়ার মৃ’ত্যুর ঘ’টনাকে হ’ত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে আশিকুর রহমান সবুজ দা’য়ীদের আ’টক ও দৃ’ষ্টান্তমূলক শা’স্তির দা’বি জানান।

মুনিয়ার খালাতো ভাই ইকবাল হোসেন জানান, তারা লা’শ নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। কুমিল্লায় আনুষ্ঠানিকতা শে’ষে নগরীর টমসমব্রিজ কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে মুনিয়ার লা’শ সমাহিত করা হবে।

এদিকে মুনিয়ার ঝু’লন্ত ম’রদেহ উ’দ্ধার করার সময় মুনিয়ার পা দু’টো বিছানার সাথে লেপ্টানো ছিল বলে জানিয়েছেন তার দুলাভাইয়ের বন্ধু জিসান। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সাথে কথা হয় গ’ণমাধ্যমের।

জিসান বলেন, আমি ঘ’টনাস্থলে গিয়ে ফ্যানের সাথে ঝু’লন্ত অবস্থায় মুনিয়ার ম’রদেহ দেখি। তখন তার পা দু’টো বিছানায় ছিল। কিন্তু পা গুলো শুধু বিছানার সাথে লেপ্টে ছিল ছিল। দুই পা দুপাশে ছড়ানো ছিল। ওর পায়ের মাঝখানে একটা টোল ছিল।

কিন্তু সেটা খাড়া অবস্থায়ই ছিল। যার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, শে’ষ মুহুর্তে মেয়েটি বাঁ’চার চে’ষ্টা করলে টোলটি এভাবে থাকতো না। হয়তো পড়ে যেতো। যার কারণে এটাকে হ’ত্যা বলে ধরা হচ্ছে।

মুনিয়ার মৃ’ত্যুকে হ’ত্যা না কি অন্য কিছু তা স্পষ্ট না উল্লেখ করে জিসান বলেন, তার বাসা থেকে ৪টি ডায়েরি উ’দ্ধার করেছে পু’লিশ। ২০২০ সাল থেকে দৈনিক সে সব বিষয় ডায়েরিতে লিখেছে। তাকে মা’নসিকভাবে চা’পে রাখা হচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, পু’লিশ বলেছে পা ঝু’লে থাকার পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখা আছে। কিন্তু পা যদি এভাবে ঝু’লেও থাকতো তাহলে বিছানায় ছড়ানো থাকতো না। বিষয়টা ত’দন্তের পর বলা যাবে আসলে কি ঘ’টেছিল।

আনভীরের পক্ষ থেকে মুনিয়াকে হ’ত্যার হু’মকি দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে জিসান বলেন, মুনিয়া তার বোনকে ফোন দিয়ে বলেছিল তাকে হ’ত্যার হু’মকি দেওয়া হচ্ছে। আনভীরের শ’ত্রু পক্ষের সাথে মুনিয়ার স’ম্পর্ক আছে বলে তাকে এই হু’মকি দেওয়া হচ্ছিল।

জানা গেছে, মা’মলার বাদী ওই ত’রুণীর বোন নুসরাত জাহান। সন্ধ্যার পর গুলশান-২-এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামের এক ত’রুণীর ম’রদেহ উ’দ্ধার করে পু’লিশ। তাঁর বাবা বীর মু’ক্তিযো’দ্ধা শফিকুর রহমান। তাঁদের বাড়ি কুমিল্লার উজির দিঘিরপাড়। এক লাখ টাকা ভাড়ায় মাস দুয়েক আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন মুনিয়া।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল অডিওক্লিপটিতে, এক ব্যক্তি এবং এক না’রীর কথোপকথন শোনা যায়। সেই কথোপকথনে ৫০ লাখ টাকার কথা উঠে আসে। তবে এই টাকার উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।

অডিও ক্লিপে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমার টাকাটা দিয়া দিস, তুইই আমার টাকা নিছস। কান্নারত ত’রুণী বলেন, আ’ল্লাহরে ভ’য় পান না আপনি? আপনাকে কে বলছে আমি ৫০ লাখ টাকা নিছি, আমি কোনো টাকা নেই নাই।

উত্তরে অন্যপাশ থেকে ওই ত’রুণীকে বারংবার অকথ্য ভা’ষায় গা’লাগা’লি করা হয়। যদিও অডিওক্লিপটিতে কথা বলা দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অডিওক্লিপটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকহারে ভাইরাল হয়েছে।

তবে অডিওক্লিপের ত’রুণীর প’রিচয় নিশ্চিত না হওয়া গেলেও ৫০ লাখ টাকার বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। কার কাছ থেকে কী কারণে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছেন সে বিষয়ে এখনো কিছুই জানা যায়নি।

বড় বোনের অভিযোগ, ভিকটিমের স’ঙ্গে ওই শিল্প গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই বছরেরও বেশি সময় ধ’রে প’রিচয় এবং সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মনমালিন্য ঘ’টে। পরবর্তীতে মুনিয়া কুমিল্লা চলে যান।

পরে কুমিল্লা থেকে পুনরায় ঢাকায় আসেন। এসব ঘ’টনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে মুনিয়া তার বোনকে ফোন করে জানান, তার জীবনে যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘ’টতে পারে।

সুদীপ আরও জানান, যদি সাক্ষ্যপ্র’মাণ পাওয়া যায় যে, অ’ভিযুক্ত দো’ষী তাহলে অবশ্যই তার বি’রুদ্ধে বাংলাদেশের দ’ণ্ডবিধিতে যে ব্যবস্থা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে বলেও জানান তিনি।

বাদী মা’মলার এজাহারে বলেন, মোসারাত জাহান (২১) মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মা’মলার আ’সামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) স’ঙ্গে মোসারাতের প’রিচয় হয়। প’রিচয়ের পর থেকে তাঁরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন।

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রে;মের স’ম্পর্ক গ’ড়ে ওঠে। এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী প’রিচয় দিয়ে আ’সামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তাঁরা বসবাস করতে শুরু করেন।

২০২০ সালে আ’সামির পরিবার এক না’রীর মাধ্যমে এই প্রে;মের স’ম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আ’সামির মা মোসারাতকে ডেকে ভ’য়ভী’তি দেখান এবং তাঁকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আ’সামি কৌ’শলে তাঁর (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আ’শ্বাস দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সবশে’ষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে প্র’রোচিত করেন আ’সামি। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বা’দী নুসরাত ও তাঁর স্বামীর প’রিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন।

ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আ’সামি ও তাঁর (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁ’ধিয়ে রাখা হয়। আ’সামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো। বা’দী নুসরাত এজাহারে বলেন, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আ’সামি তাঁকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন।

কারণ, দেশে থাকলে আ’সামির মা–বাবা আ’সামিকে কিছু না করলেও তাঁর বোনকে মে’রে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আ’সামি মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন। বা’দী এজাহারে বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। মোসারাত তাঁকে বলেছেন, আনভীর তাঁকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন।

ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ‌পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তাঁর মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আ’সামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আ’সামির মা জানতে পারলে তাঁকে (মোসারাত) মে’রে ফেলবেন।

এজাহারে নুসরাত বলেন, দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কা’ন্নাকা’টি করে বলেন, আনভীর তাঁকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভো’গ করেছেন। আ’সামিকে উ’দ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আ’সামি তাঁকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তাঁর শ’ত্রুর স’ঙ্গে দেখা করেছেন।

মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আ’সামি তাঁকে ধোঁ’কা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁর বড় দু’র্ঘটনা ঘ’টে যেতে পারে। তাঁরা (বা’দী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তাঁর আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধ’রেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন।

তাঁরা নি’রাপত্তার’ক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাটের মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভে’ঙে ঘরে ঢোকার পরাম’র্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভে’ঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তাঁর বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝু’লে আছেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পু’লিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মৃ’তদে’হ নামায়। আ’লামত হিসেবে আ’সামির স’ঙ্গে ছবি, আ’সামির স’ঙ্গে প্রে;মের স’ম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তাঁর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পু’লিশ।

মা’মলার বাদী নুসরাত জাহান পু’লিশের কাছে মুনিয়ার লেখা একটি ডায়েরি জমা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে এ ডায়েরি থেকে আরও ত’থ্য বেরিয়ে আসবে। এজাহারে বলা হয়েছে, মুনিয়ার লেখা প্রে;ম কাহিনির ডায়েরি পু’লিশ হেফাজতে নেয়।

ওই ডায়েরিতে মুনিয়া প্রতিদিন তারিখ দিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য লিখে গেছেন। তাকে বিভিন্ন ভাবে মানসিক চাপের কথাও ডায়েরিতে লিখে গেছেন মুনিয়া।

পু’লিশ সূত্র বলছে, আ’সামির প্রত্যক্ষ ও পরো’ক্ষ প্র’রোচনায় ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় মোসারাত মা’রা যান। বাদী নুসরাত মা’মলার আ’সামির বি’রুদ্ধে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অ’নুরোধ জানিয়েছেন।