এ বছর সবচেয়ে দীর্ঘ রোজা গ্রিনল্যান্ডে, ছোট নিউজিল্যান্ডে

গ্রিনল্যান্ডের মুসলিমরা এ বছর সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রোজা রাখবেন। তাদের রোজা রাখতে হবে ১৯ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট।

অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সময় রোজা রাখবেন নিউজিল্যান্ড (১১ ঘণ্টা ২০ মিনিট), চিলি, অস্ট্রেলিয়া, উরুগুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকার (১১ ঘণ্টা ৫২ মিনিট) মুসলিমরা।

আইসল্যান্ড (১৯ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট), ফিনল্যান্ড (১৯ ঘণ্টা ৯ মিনিট), সুইডেন (১৮ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট) ও স্কটল্যান্ডের মুসলিমরা (১৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট) রোজা রাখবেন।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজান শুরু হয় ১৩ এপ্রিল।

আরো পড়ুন: খোশ আমদেদ মাহে রমজানুল মোবারক !

খোশ আমদেদ মাহে রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মুসলমানরা এ তিন ধাপে ইবাদত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে।

সারা বছর জ্ঞাত-অজ্ঞাতসারে তারা যে পাপ করেছে, তা থেকে ক্ষমা পাওয়ার মোক্ষম মাস হল এ রমজান। সিয়াম সাধনার দ্বারা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তারা নাজাতের পথ খুঁজবে। হাজার রজনীর শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল কদর রমজান মাসকে করেছে বিশেষভাবে মহিমান্বিত। এ রাতেই রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) ওপর সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন।

কুরআনের শিক্ষা হল বিশ্বাসী মানুষকে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে অশেষ কল্যাণ দান করা। কৃচ্ছ্রসাধন ও আত্মসংযমের এ মাসে তাই সংসারি মানুষ আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার ওয়াদা করে, তাদের সবরকম গুনাহ্ মাফ করে দেওয়ার আকুল প্রার্থনা জানায়। এ মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের কঠোর ত্যাগ, ধৈর্য, উদারতা ও সততা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। এবার করোনা পরিস্থিতে রমজানে তারাবির নামাজে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে বলা হয়েছে। সবাইকে এ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমানের উচিত করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে মোনাজাত করা। মহান আল্লাহ আমাদের এই বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করুন। আমরা প্রতি বছরই দেখি, রমজানে একশ্রেণির ব্যবসায়ী সততা আর ন্যায়নীতি ভুলে অতি মুনাফা লাভের প্রতিযোগিতায় নামে। তারা রমজান মাসকে মুনাফা লোটার প্রায় হাতিয়ার করে ফেলে।

জানা গেছে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও এবারও রমজান ঘিরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফার লোভে কারসাজি শুরু করেছে। যথেচ্ছভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর এই প্রবণতা আমাদের ব্যবসায়ীদের কৃচ্ছ্র আর আত্মশুদ্ধির বিপরীতে নিয়ে গেছে যেন। রমজানের সংযমের শিক্ষা অনুসরণের বদলে তারা যেন আরও সুযোগসন্ধানী ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ বাস্তবতায় রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে সবচেয়ে কষ্টে আছে দরিদ্র মানুষ। গরিব-দুঃখীদের বিপদে সহায়তা করা রমজানের শিক্ষা। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও দায়িত্ব রয়েছে গরিবদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।

এ পবিত্র মাসে দেশের সব মুসলমান ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী ত্যাগ ও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।