মাদরাসা শিক্ষার নামে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে: এমপি মোকতাদির

ফাইল ফটো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অথচ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাদেরকে আদর সোহাগ করা হয়। এ যেন এক দেশে দুই আইন।

হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও মিলন মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোকতাদির চৌধুরী এ অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি যেন বিস্মৃতিতে তলিয়ে না যায় সে বিষয়ে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকারের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পৌর মেয়র নায়ার কবির।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মো. সাইদুজ্জামান আরিফের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরোজুর রহমান, সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন, প্রেস ক্লাব সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি,

চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির সভাপতি মো. আজিজুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তার হোসেন সাঈদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াসেল সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোরায়রাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন ভূইয়া বকুল।

এ সময় প্রধান অতিথি মোকতাদির চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সেটা আওয়ামী লীগ হোক আর বিএনপি হোক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ২১ জন একসঙ্গে সচিব ছিলেন সেটা হয়তো অনেকর ভালো নাও লাগতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এমপি হন আর মন্ত্রী হন যদি জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলেন তাহলে আমার আপত্তি নেই। যারাই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলবে তারাই আমার লোক। জয় বাংলা হলো আমাদের বাঙালির প্রাণের শ্লোগান। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলা কোনো লোকের সঙ্গে আমার বিরোধ নাই।’

অনুষ্ঠানে প্রায় তিন শ মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের বক্তব্যে যুদ্ধদিনের স্মৃতিচারণ করেন। নিজেরা একসঙ্গে হতে পেরে অনেকে আপ্লুত হয়ে পড়েন। সামনের দিনগুলো মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আরো কমতে থাকবে উল্লেখ করে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

মাদরাসাগুলোতে ইসলামের সঠিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষার নামে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। আমি চাই মাদরাসা বিষয়ে সব জেলায় একটি করে কমিটি হবে।

যে কমিটিতে কওমির লোকজনও থাকবে। এক মাদরাসা থেকে আরেক মাদরাসার দূরত্ব কত হবে সেটার একটা নীতিমালা থাকতে হবে।’