আমার দেখা ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় মেসি :নেইমার

কোপা ফাইনালে মাঠে দুই জনই লড়াই করেছেন নিজেদের সবটুকু দিয়ে। লড়াই শেষে দুই জনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তবে সব আনুষ্ঠানিকতার শেষে তাদের দেখা যায় চেনা চেহারায়। এক সঙ্গে অনেকটা সময় আড্ডা মারেন লিওনেল মেসি ও নেইমার। পরে ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজেই জানালেন, কী কথা হয়েছিল তাদের মাঝে।

এদিকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ ছাপিয়ে তাদের রয়েছে মধুর এক বন্ধুত্বের সম্পর্ক। যার শুরুটা হয়েছিল নেইমার বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার পর থেকে। সময়ের পরিক্রমায় নেইমার ক্লাব ছেড়ে গেলেও তাদের সম্পর্কে কোনো ভাটা পড়েনি।

তাই কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে দুঃখ ভারাক্রান্ত নেইমার ছুটে যান মেসির কাছে। লম্বা সময় ধরে আলিঙ্গনে সাবেক সতীর্থকে শুভেচ্ছা জানান, জাতীয় দলের হয়ে প্রথম শিরোপা জয়ে। নিজেদের পরাজয়ে হতাশ নেইমার খুশি মেসির অর্জনে।

সমর্থকরা বিভিন্ন উপলক্ষে তুলনা টেনে আনলেও তাদের মধ্যকার সম্পর্কে সেটা কখনোই প্রতিফলিত হয়নি। নেইমারের কাছে মেসি বড় ভাই সমতুল্য। যার কাছ থেকে তিনি শিখেছেন, যা তাকে করেছে সমৃদ্ধ। ফাইনাল শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের প্রতি নেইমার জানিয়েছেন শ্রদ্ধা। বন্ধু ও ভাই মেসির অর্জনে নিজের উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন।

নেইমার বলেন, ‘গতকাল হেরে যাওয়ার পর আমি গিয়ে আমার দেখা সব সময়ের সেরা খেলোয়াড়কে আলিঙ্গন করি, সে আমার বন্ধু ও ভাই মেসি। আমার মন খারাপ ছিল এবং তাকে মজা করে বলি, ‘তুমি আমাকে হারিয়ে দিলে’!’

নেইমার আরও বলেন, “হেরে যাওয়ায় আমি হতাশ, কিন্তু এই মানুষটা (মেসি) অসাধারণ! ফুটবলের জন্য এবং বিশেষ করে আমার জন্য সে যা করেছে সেজন্য তার প্রতি আমার রয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান।”

আরও সংবাদ

বলটি জালের যে জায়গায় লেগেছিল সেই অংশ কেটে দেশে নিয়ে গেলেন ডি মারিয়া

কোপা আমেরিকার খরা কেটেছে আর্জেন্টিনার। এবার কী তবে আর্জেন্টিনার পাখির চোখ বিশ্বকাপে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি এখনও ৫০০দিন। যার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল কোপার ফাইনালের আগের দিন থেকেই। এই বছরেই প্রথম গ্রীষ্মে মা বসে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসতে চলেছে শীতকালে। সেই বিশ্বকাপে সকলের চোখ এখন আর্জেন্তিনার দিকে থাকবে। কারণ সকলের একটাই প্রশ্ন, এই বিশ্বকাপে কী মেসি ও ডি’মারিয়ারা খেলবেন?

ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পর ডি’মারিয়া বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চা, স্ত্রী, বাবা-মা এবং যারা আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে তাদেরকে এই শিরোপা উৎসর্গ করছি। তারতারি একটি বিশ্বকাপ আসবে। এটা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।’

এ সময় নিজের দলনেতা মেসিকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে নিয়ে ডি’মারিয়া বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিস্মরণীয়। মেসি আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। আমিও মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। সে আমাকে বলেছে, এটা আমার ফাইনাল। যেসব ফাইনাল আমি চোটের কারণে খেলতে পারিনি, সেসবের প্রতিশোধ।

এটা আজই হওয়ার ছিল এবং এটাই হয়েছে।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোনও অঘটন না ঘটলে আসন্ন কাতার বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে লিওনেল মেসিকে। সেক্ষেত্রে ২০২২ বিশ্বকাপই হতে পারে এলএমটেনের শেষ বিশ্বকাপ।

এদিকে মজার এক কাণ্ড করলেন ডি মারিয়া। ম্যাচ শেষে কেটে নিয়ে আসলেন ব্রাজিলের গোলপোস্টের জাল। ফাইনালে গোলপোস্টের জাল কাটার রীতি রয়েছে জয়ী দলের। সেই কাজটি ভালোভাবেই সারলেন ডি মারিয়া। এইদিন আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। ম্যাচের ২২তম মিনিটে ব্রাজিলের জালে বল ঝরান এই পিএসজি তারকা। বলটি জালের যে জায়গায় গিয়ে লেগেছিল সেই অংশটুকু কেটে দেশে নিয়ে আসেন আর্জেন্টিনার এই পারফেক্ট-ইলেভেন।

টুর্নামেন্টে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করা মেসিকে ছাপিয়ে ফাইনালে নায়ক হয়েছেন ডি মারিয়াই। তার গোলই ২৮ বছর পর শিরোপা স্বাদ এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে। তার কল্যাণেই সময়ের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত লিওনেল মেসির হাতে ট্রফি উঠেছে। তাই সেই স্মরণীয় গোলের গোলপোস্টের জালটি তিনি কেটে আনতেই পারেন!